ওঙ্কার ডেস্ক: পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সম্ভাব্য ইরান-আমেরিকা শান্তি আলোচনা ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, যদিও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তা কাটছে না।
মার্কিন প্রশাসনের তরফে এই আলোচনাকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা শুরু হয়েছে। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহল থেকে জানা যাচ্ছে, তাঁর জামাতা জেরেড কুশনারকে বিশেষ দূত হিসেবে ইসলামাবাদে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক আলোচনায় তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতার পথ খোঁজাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। পাশাপাশি মার্কিন প্রতিনিধিদলে আরও কয়েকজন কূটনীতিক ও নীতিনির্ধারক থাকতে পারেন বলে খবর।
অন্যদিকে, ইরান সরাসরি আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় বসতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে। তেহরানের অবস্থান অনুযায়ী, তারা পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পরোক্ষভাবে বার্তা আদানপ্রদান করতে আগ্রহী। ফলে সম্ভাব্য বৈঠকটি মুখোমুখি আলোচনা না হয়ে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই অবস্থান স্পষ্ট করে দেয়, দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস এখনও গভীর।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। সামরিক তৎপরতা, কৌশলগত চাপ এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ ও জ্বালানি সরবরাহ ঘিরে অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলছে। এর ফলে তেলের দামের ওঠানামা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
ইসলামাবাদে সম্ভাব্য এই বৈঠককে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। পাকিস্তান সরকার এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে আগ্রহী এবং দুই দেশের মধ্যে সংলাপের পরিবেশ তৈরি করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিকবার ইরান ও আমেরিকার মধ্যে আলোচনা উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা চূড়ান্ত ফলপ্রসূ হয়নি। তবে বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় এই নতুন প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। যদিও শেষ পর্যন্ত এই আলোচনা বাস্তবায়িত হবে কি না এবং তা কতটা কার্যকর হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।