ওঙ্কার ডেস্ক: দক্ষিণ আমেরিকার ভেনেজুয়েলা আবারও আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে এবার শুধু তেল নয়, দেশটির ভূগর্ভে থাকা বিপুল সোনা ও বিরল খনিজ সম্পদকে ঘিরেই নতুন করে সংঘাত ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ভেনেজুয়েলার সরকারের অভিযোগ, এই সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতেই যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক চাপ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং পরোক্ষ সামরিক আগ্রাসনের পথ বেছে নিয়েছে।
ভেনেজুয়েলার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত বিস্তীর্ণ ওরিনোকো মাইনিং আর্ক এলাকায় বিপুল পরিমাণ সোনা, কোলটান ও বিরল পৃথিবীর উপাদান থাকার দাবি করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে এই খনিজগুলির গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই কারণেই ভেনেজুয়েলার উপর আন্তর্জাতিক শক্তিগুলির নজর আরও তীব্র হয়েছে। ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বের দাবি, তেলের পরে এবার এই খনিজ সম্পদই দেশটির বিরুদ্ধে আগ্রাসনের প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলায় একাধিক বিস্ফোরণ, অশান্তি ও নিরাপত্তা অস্থিরতার ঘটনার পর দেশটির সরকার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের দিকে আঙুল তুলেছে। মাদুরোকে অপহরণের পর অভিযোগ, এগুলি কেবল অভ্যন্তরীণ সংকট নয়, বরং বিদেশি শক্তির পরিকল্পিত হামলা ও নাশকতার অংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটানো এবং সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাই ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই ভেনেজুয়েলার উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যার ফলে দেশটির অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে এবং খনিজ ও তেল উত্তোলনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ভেনেজুয়েলার মতে, এই অর্থনৈতিক অবরোধই আসলে এক ধরনের যুদ্ধ, যার মাধ্যমে দেশটিকে দুর্বল করে সম্পদের দরজা খুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসে পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে। খাদ্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও কর্মসংস্থানের সংকট আরও তীব্র হয়েছে। একই সঙ্গে খনিজসমৃদ্ধ এলাকাগুলিতে অবৈধ খনন, পরিবেশ ধ্বংস এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর দৌরাত্ম্যও বাড়ছে। সরকারের দাবি, এসব অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে বিদেশি শক্তি ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
