ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের আবহে ফের চর্চায় এসেছে ইরানের মাটিতে পতিত হওয়া আমেরিকান ফাইটার পাইলট। তাঁদের খুঁজে বের করতে তৎপর মার্কিন প্রশাসন। পাইলটদের উদ্ধার করতে ইরানের দিকে ছুটে যাওয়া বিমানেও আঘাত হেনেছে ইরান। পাশাপাশি ইরানও সরকারি ভাবে পরোয়ানা জারি করেছে ইরানের মাটিতে থাকা মার্কিন যুদ্ধবিধ্বস্ত পাইলটের সন্ধান দিতে পারলে মিলবে পুরষ্কার। একদিকে মার্কিন প্রশাসন খুঁজে চলেছে তাঁদের দক্ষ পাইলটদের, অপরদিকে তাঁদের খোঁজে ইরানে চলছে চিরুনি তল্লাশি। এহেন পরিস্থিতিতে শত্রু দেশে কিভাবে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে একজন পাইলট, তার ট্রেনিংও দেওয়া হয় প্রশিক্ষণের সময়।
যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ভূপাতিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে পাইলটের প্রথম কাজ হল দ্রুত ইজেক্ট করে নিরাপদে ভূমিতে নামা। তবে এই প্রক্রিয়াটিও সহজ নয়। পাইলটকে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হয় কোথায় নামলে শত্রুর নজর এড়ানো সম্ভব। আকাশে ভেসে নামার সময়ই তিনি আশপাশের ভূখণ্ড, বসতি বা সম্ভাব্য বিপদের দিকগুলি পর্যবেক্ষণ করেন। মাটিতে নামার পরই শুরু হয় সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়। শত্রু এলাকায় একা পড়ে থাকা পাইলটকে প্রথমেই নিজের শারীরিক অবস্থা যাচাই করতে হয়। গুরুতর আঘাত পেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এরপরই প্রধান লক্ষ্য থাকে নিরাপদ আশ্রয় খোঁজা এবং যতটা সম্ভব নিজেকে আড়ালে রাখা। কারণ শত্রুপক্ষের হাতে ধরা পড়ার ঝুঁকি সবসময়ই থাকে।
এই পরিস্থিতির জন্য পাইলটদের আগে থেকেই বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সারভাইভাল, এভেশন, রেজিস্ট্যান্স এবং এস্কেপ এই চারটি ধাপে গঠিত প্রশিক্ষণে শেখানো হয় কীভাবে প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে হয়, কীভাবে শত্রুর চোখ এড়াতে হয় এবং প্রয়োজনে কীভাবে পালিয়ে আসা যায়। প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলেও কীভাবে মানসিকভাবে স্থির থাকতে হবে, তাও এই প্রশিক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পাইলটদের সঙ্গে থাকে কিছু জরুরি সরঞ্জাম। এর মধ্যে থাকে সীমিত পরিমাণ খাবার, বিশুদ্ধ জল, দিক নির্ণয়ের যন্ত্র, প্রাথমিক চিকিৎসার সামগ্রী এবং সংকেত পাঠানোর ডিভাইস। এসব ব্যবহার করে তারা কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকার চেষ্টা করেন, যতক্ষণ না উদ্ধারকারী দল পৌঁছায়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। যত দ্রুত উদ্ধার সম্ভব, ততই পাইলটের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ে। দেরি হলে শত্রুর হাতে ধরা পড়া বা প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কারণে বিপদের আশঙ্কা বাড়তে থাকে। ইতিমধ্যেই সংবাদ সংস্থা বিবিসি দাবী করেছে ইরান থেকে সুস্থভাবে একজন পাইলটকে উদ্ধার করেছে মার্কিন বায়ুসেনা। এখনও এক পাইলটকে উদ্ধার করতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।