ওঙ্কার ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতি হঠাৎ পরিবর্তিত হওয়ায় ভারতীয় এইচ ১বি এবং এইচ৪ ভিসা আবেদনকারীদের মধ্যে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বহু আবেদনকারী যাদের সাক্ষাৎকারের তারিখ আগেই নির্ধারিত ছিল, তারা হঠাৎ করে জানতে পারেন যে তাঁদের নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। নতুন তারিখ হিসেবে কয়েক মাস পরের সময় দেখানো হয়েছে, ফলে কর্মক্ষেত্র, পরিবার পরিকল্পনা এবং বিদেশে যোগদানের সময়সূচি নিয়ে বড়সড় জটিলতা দেখা দিয়েছে।
এই পরিবর্তনের মূল কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক মাধ্যম যাচাই-বিধিকে আরও কঠোর করা হয়েছে। আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খোলা রাখতে হবে এবং অনলাইন কার্যকলাপ পরীক্ষা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। শুধুমাত্র আবেদনকারী নয়, তার নির্ভরশীলদের ক্ষেত্রেও একই বিধি প্রযোজ্য হচ্ছে। অনলাইনে দেওয়া তথ্য, মত প্রকাশ, সংযোগ এবং পোস্ট-সংক্রান্ত বিষয়গুলো খুঁটিয়ে দেখা হতে পারে। প্রশাসনের দাবি নিরাপত্তা এবং যাচাই-প্রক্রিয়াকে আরও জোরদার করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ভারতের বিভিন্ন শহরে ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিলের ঘটনা ঘটছে, বিশেষত যেসব আবেদনকারী ডিসেম্বরের মধ্যভাগে সাক্ষাৎকারের তারিখ পেয়েছিলেন, তাঁদের কয়েকজনকে জানানো হয়েছে যে পূর্ব নির্ধারিত দিনে কনস্যুলেটে গেলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট নোটিশ ছাড়া সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা সম্ভব নয় বলেই জানাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এই পরিস্থিতি থেকে বহু পেশাজীবী কার্যত বিপাকে পড়েছেন।
এইচ ১বি ভিসাধারীদের অধিকাংশই বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কর্মরত বা চাকরির অফার হাতে পেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে যোগ দিতে না পারায় তাঁদের প্রকল্প স্থগিত রয়েছে, আবার অনেক সংস্থা দূর থেকে কাজ করার অনুমতি দিলেও তা ভবিষ্যতের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কেউ কেউ পরিবার নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, কেউ বা নতুন চাকরিতে যোগদানের সময় ঠিক করেছিলেন সবই এখন ঝুলে আছে অনিশ্চয়তায়।
চিকিৎসা, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং প্রযুক্তিক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে কর্ম সুযোগের গুরুত্ব দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয়দের কাছে বিশেষ আকর্ষণ ছিল। তাই ভিসা সাক্ষাৎকার পিছিয়ে যাওয়া শুধু প্রশাসনিক জটিলতা নয়, ভবিষ্যৎ কর্মসূচির ওপরও বড় প্রভাব ফেলছে। অনেক আবেদনকারী ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত বাসস্থান খরচ, ভ্রমণ পরিকল্পনা এবং নথি সংশোধনের ব্যয় বহন করছেন।
ভিসা বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক মাধ্যম যাচাই-নীতি কড়া হওয়ায় ভবিষ্যতেও ভিসা প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হবে। সেই সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য কতটা ব্যবহার হবে তা নিয়ে গোপনীয়তার প্রশ্নও উঠছে। কয়েকজন আবেদনকারী এর বিরুদ্ধে আইনি পরামর্শ নিচ্ছেন বলেও জানা গেছে।
