ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা উত্তেজনার আবহে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলল। মার্কিন প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের দাবি, ইজরায়েল এবং লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হেজবোল্লা যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে এই সমঝোতা কার্যকর হলে সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষ কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের একাংশ।
সূত্রের খবর, গত কয়েক সপ্তাহে ইজরায়েল-লেবানন সীমান্তে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। রকেট হামলা, ড্রোন আক্রমণ এবং বিমান অভিযানের জেরে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। উভয় পক্ষেরই ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে আসে। এই পরিস্থিতিতে সংঘাত আরও বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘ আলোচনার পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার বিষয়ে দুই পক্ষ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সমঝোতার পিছনে আমেরিকার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশের মধ্যস্থতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল সীমান্তে উত্তেজনা কমানো এবং নতুন করে বৃহৎ সামরিক সংঘর্ষ এড়ানো।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি কেবল ইজরায়েল ও হেজবোল্লার মধ্যে সংঘর্ষ থামানোর প্রচেষ্টা নয়, বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে চলমান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে এই সমঝোতার যোগ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। সীমান্তের কয়েকটি এলাকায় বিচ্ছিন্ন হামলার অভিযোগ উঠেছে। ফলে যুদ্ধবিরতি কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে তা বজায় রাখা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে এখনও সংশয় রয়েছে। অতীতেও একাধিকবার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হলেও পরে তা ভেঙে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে।