ওঙ্কার ডেস্ক: দুই নৃত্যশিল্পীকে কাজের প্রস্তাব দিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল। ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের পাটনার নৌবতপুর এলাকায়। নির্যাতিতারা সম্পর্কে দুই বোন বলে জানা গিয়েছে। ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা দুই নৃত্যশিল্পীকে এক অনুষ্ঠানে নাচের কথা বলে বিহারের ওই গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। এর পর সেখানে বেশ কয়েকজন মিলে দুজনকে ধর্ষণ করে। ইতিমধ্যে ১৩ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতাদের অভিযোগের ভিত্তিতে নৌবতপুর পুলিশ ১৩ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে তিন জনের নাম পরিচয় জানা গিয়েছে। এক অভিযুক্তকে ইতিমধ্যে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চলছে। অভিযোগ অনুসারে, গত ১৮ জুন ঘটনাটি ঘটে। ঝাড়খণ্ডের লাতেহার জেলার বাসিন্দা ওই দুই বোন পাটনার মিঠাপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। নির্যাতিতারা পুলিশকে জানিয়েছেন, নৌবতপুর থানা এলাকার একটি গ্রামে তিলক অনুষ্ঠানের সময় নাচের জন্য ৮,০০০ টাকার বিনিময়ে তাঁদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল। অভিযোগ, ভেলুরা রামপুর গ্রামের বাসিন্দা মুন্না কুমার এই চুক্তির ব্যবস্থা করেছিল। ওই ব্যক্তি দুই বোনকে মিঠাপুর থেকে স্কুটারে করে ওই গ্রামে নিয়ে গিয়েছিল।
অভিযোগ, যেখানে অনুষ্ঠান সেখানে না নিয়ে গিয়ে মুন্না কুমার একটি নির্জন জায়গায় দুই বোনকে নিয়ে যায়। সেখানে আসে মুন্নার দুই তুতো ভাই সুরজ কুমার ও ভানু কুমার। আরও বেশ কয়েকজনও ঘটনাস্থলে আসে জোর করে সেখানে দুয়ি তরুণীকে বন্দি করে রাখে অভিযুক্তরা। অভিযোগ, সবাই মিলে সারা রাত ধরে তাঁদের উপর যৌন নির্যাতন চালায়। এমনকি পালানোর চেষ্টা করলে তাঁদের মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। ঘটনার কথা কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ১৯ জুন সকালে অভিযুক্তরা দুই তরুণীকে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। সেই সময় ফুলওয়ারি শরিফের কাছে তাঁরা চিৎকার করেন। নির্যাতিতারা সাহায্য চাইলে স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে জড়ো হয়ে ১১২ হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। এরপর তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে এসে দুই তরুণীকে ফুলওয়ারি শরিফ থানায় নিয়ে যায়। পরে নৌবতপুর পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। তারা তদন্ত শুরু করে।
ফুলওয়ারি শরিফের এসডিপিও-২ দীপক কুমার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ফরেনসিক তদন্তকারীদের একটি দলও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মুন্না কুমার, সুরজ কুমার ও ভানু কুমার-সহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এক অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বাকি অভিযুক্তদের খুঁজে বের করতে ও গ্রেফতার করতে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।