ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা ও দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি-আলোচনাকে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। দুই দেশের প্রতিনিধিদের সুইৎজারল্যান্ডে বৈঠকের সম্ভাবনা সামনে আসতেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের আশা আরও জোরদার হয়েছে। আগে ফ্রান্সে জি৭ সম্মেলনে দুই দেশের প্রেসিডেন্ট ডিজিটাল শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। স্বাভাবিকভাবেই এই শান্তিচুক্তি নিয়ে গোটা বিশ্বে উত্তেজনা তুঙ্গে।
সূত্রের খবর, মার্কিন প্রশাসনের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সুইৎজারল্যান্ডে পৌঁছনোর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। জানা গিয়েছ এই বৈঠকে ট্রাম্প জামাতা কুশনারও থাকবে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও আলোচনায় অংশ নিতে সেখানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ঘিরে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংলাপ শুরু হওয়া বর্তমান সংকট নিরসনের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
বৈঠকে মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিষয়, সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে আমেরিকা ও ইরানের সম্পর্ক একাধিকবার তলানিতে পৌঁছালেও উভয় পক্ষই এখন সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে কূটনৈতিক পথেই সমাধান খুঁজতে আগ্রহী।
প্রাথমিকভাবে বৈঠকটি আরও আগে হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক কারণে তা পিছিয়ে যায়। ফলে আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেই উভয় দেশ আবারও আলোচনার টেবিলে বসতে সম্মত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিদের আলোচনায় অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপের এই উদ্যোগকে অনেকেই শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্য পথ হিসেবে দেখছেন। এখন নজর থাকবে সুইৎজ়ারল্যান্ডের বৈঠকের দিকে, যেখানে গৃহীত সিদ্ধান্ত আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।