ওঙ্কার ডেস্কঃ ইরানে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। মার্কিন বাহিনীর সবচেয়ে বড় ঘাঁটিগুলির একটি রয়েছে কাতারে। সেই ঘাঁটিই গুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টায় ছিল ইরান। কিন্তু হামলার ঠিক আগে ইরানের দুটি বোমারু বিমানকে গুলি করে নামিয়ে দেয় কাতারের যুদ্ধবিমান। এমনটাই দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। সিএনএনের সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের হামলার লক্ষ্য ছিল কাতারের আল-উদেইদ এয়ার বেস, যেখানে সাধারণত প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকে। ইরানের বিমানগুলি টার্গেট থেকে মাত্র দু’মিনিট দূরে ছিল। কিন্তু কাতারের যুদ্ধ বিমান শেষমেশ সেই পরিকল্পনা সফল হতে দেয়নি।
সূত্রের খবর, ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড দুটি সুখোই যুদ্ধবিমান বিমান নামায়। এই বিমানগুলির টার্গেট ছিল কাতারের আল-উদেইদ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং রাস লাফান গ্যাস প্রসেসিং কেন্দ্র। ইরানের বিমান দু’টি অত্যন্ত নিচু দিয়ে উড়ছিল। যাতে রাডারের নজর এড়ানো যায়। তবে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠতেই কাতার দ্রুত তাদের যুদ্ধবিমান পাঠায়। কাতারের পালটা হামলায় দুটি ইরানি বিমানই লুটিয়ে পড়ে। বিমান দুটি কাতারের জলসীমায় ভেঙে পড়ে বলে জানা গিয়েছে।
কাতারের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানিয়েছেন, বিমানের ক্রুদের খোঁজে অনুসন্ধান অভিযান চলছে। তবে এখনও পর্যন্ত তাদের সম্পর্কে কোনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, মার্কিন সেনাবাহিনীর জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, “কাতারের যুদ্ধবিমান প্রথমবারের মতো আকাশযুদ্ধে ইরানের দুটি বোমারু বিমান ভূপাতিত করেছে।”
পর্যবেক্ষকদের মতে, যুদ্ধে কাতারের অংশগ্রহণ দেখিয়ে দিচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এখন শুধু ইরান, ইজরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। উপসাগরীয় দেশগুলিও পরোক্ষভাবে অংশ নিচ্ছে যুদ্ধে।