ওঙ্কার ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে ইজরায়েল-আমেরিকার যৌথ হামলার প্রেক্ষাপটে উত্তাল বিশ্বরাজনীতি। এই যুদ্ধের আবহে ‘নো ওয়ার’ অবস্থানে অনড় থাকার সিধান্ত নিয়েছে ইউরোপের দেশ স্পেন। আমেরিকার তরফ থেকে যুদ্ধে হামলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য স্পেনের মাটিকে ব্যবহারের জন্য আর্জি জানানো হলে না খারিজ করে দেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী প্যাড্রো স্যাঞ্চেজ। তাঁর কথায় স্পেন নৈতিকতার বিরুদ্ধের গিয়ে কোনো যুদ্ধকে সমর্থন করবে না। অবশ্য স্পেনের এই অবস্থানের জেরে ট্রাম্পের রোষের মুখে পরতে হতে পারে স্পেনকে, তা হুমকিও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির জন্য স্পেন ইজরায়েলেবং আমেরিকার দিকেই আঙ্গুল তুলেছে। সেদেশের প্রধানমন্ত্রীর কথায় ইরানের উপর ইজরায়ে-আমেরিকার এই হামলা পুর্ব পরিকল্পিত এবং অমানবিক। দেশের এক জাতীয় টেলিভিশনে সাক্ষাৎকারের সময় প্যাড্রো স্যাঞ্চাজ বলেন, “কোনো দেশ ভবিষ্যতে ক্ষতি করতে পারে ভেবে সেদেশের উপর আক্রমণ মেনে নেওয়া যায় না”। তিনি আরও জানান, “স্পেন এমন কোনো ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হবে না যা বিশ্বের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে”। তিনি ইরানের উপর হামলাকে বিপদজ্জনক অগ্রাসন বলেও অবিহিত করেছেন।
মঙ্গলবারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। কারণ, স্পেন স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে তাদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। তবে এখনও স্পষ্ট নয়, ঠিক কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করতে পারে। কারণ স্পেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্র, আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের আওতায় থাকা ২৭টি দেশের বাণিজ্যিক নীতির উপর নজরদারি করে ইইউ-ই।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো স্যাঞ্চেজ আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানের উপর সামরিক হামলা গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে নতুন করে বড় সামরিক সংঘাতে ঠেলে দিতে পারে। তাঁর মতে, অতীতে যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরাক ও আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল, তখনও সেই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে স্যাঞ্চেজ বলেন, “সংক্ষেপে বলতে গেলে, এই পরিস্থিতিতে স্পেন সরকারের অবস্থান, যুদ্ধে আমাদের মত নেই।”
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প প্রকাশ্যে স্পেনের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যেতে দক্ষিণ স্পেনের যৌথ সামরিক ঘাঁটিগুলি ব্যবহার করতে অনুমতি না দিয়ে দেশটি ‘ভয়াবহ’ আচরণ করেছে। সেই বৈঠকের পরই ট্রাম্প মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টকে স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক লেনদেন বন্ধের নির্দেশ দেন। এর জবাবে স্যাঞ্চেজ কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “একটি অবৈধ কাজের জবাব আরেকটি অবৈধ কাজ দিয়ে দেওয়া যায় না। এভাবেই মানবতার বিপর্যয়ের সূচনা হয়।”