ওঙ্কার ডেস্ক: ইরানে ফের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। দেশটির বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে যুক্ত একটি গুপ্তচর চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।
ইরানের সরকারি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তরা দেশের অভ্যন্তরে নাশকতার পরিকল্পনা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, তারা বিদেশে প্রশিক্ষণ নিয়ে শত্রু রাষ্ট্রের হয়ে কাজ করছিল এবং সংবেদনশীল তথ্য পাচার করার সঙ্গে যুক্ত ছিল।
বিচার প্রক্রিয়ায় তাদের বিরুদ্ধে “মোহারেবে” বা ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা এবং শত্রু দেশের সঙ্গে সহযোগিতার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। ইরানের সর্বোচ্চ আদালত এই মামলায় মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার পরই তা কার্যকর করা হয় বলে জানা গেছে। তবে এই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। একাধিক মানবাধিকার সংগঠন প্রশ্ন তুলেছে বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে। তাদের অভিযোগ, অভিযুক্তদের সঠিক আইনি সহায়তা দেওয়া হয়নি এবং স্বীকারোক্তি আদায়ে চাপ প্রয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ বাড়ছে। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার এবং বিদেশি প্রভাব প্রতিরোধ করতে তেহরান আরও কড়া অবস্থান নিচ্ছে। এই ঘটনার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে ইতিমধ্যেই বিদ্যমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গুপ্তচরবৃত্তি এবং পাল্টা অভিযানের মতো বিষয়গুলি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ।