ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনার মাঝেই হঠাৎই আমেরিকা এবং ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানের উপর হামলা করে বসে। সেই হামলাকে নেহাতই ছোট অভিযান বলে উপেক্ষা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। মার্কিন সেনার ভূয়ষী প্রসংশা করেছিলেন। কিন্তু ইরানের পালটা আঘাতে ধরাশায়ী হয়ে একবার ন্যাটো একবার চিন, জাপানের মত দেশের কাছে সাহায্য চাইতে দেখা গেছে ট্রাম্পকে। ইউরোপের কাছে ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় ক্ষোভও উগড়ে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এবার ট্রাম্পের পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ইউরোপের আর্জি জানালেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতেনয়াহু।
ইরানের আঘাতে ধ্বংস হয়ে যাওয়া স্থান পরিদর্শন করতে গিয়ে রবিবার ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতেনয়াহু জানান, “বর্তমানে ইরান গোটা বিশ্বের জন্য ক্ষতিকারক”। এই চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতেনয়াহু। তাঁর দাবি, আমেরিকা এবং ইজরায়েল বর্তমানে শুধু নিজেদের সুরক্ষার জন্য নয়, বরং গোটা বিশ্বের নিরাপত্তার স্বার্থে লড়াই করছে।
এক সাম্প্রতিক ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের মতো বিপদজনক শক্তির বিরুদ্ধে এই সংঘর্ষ কেবল আঞ্চলিক সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ নয়। তাঁর কথায়, এই লড়াই এমন এক শক্তির বিরুদ্ধে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তাই এই যুদ্ধকে তিনি “বিশ্ব রক্ষার লড়াই” হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। বৈশ্বিক নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে ধরে এই সংঘাতকে বৃহত্তর পরিসরে উপস্থাপন করার চেষ্টা স্পষ্ট।
উল্লেখ্য, গত বছর জুন মাসে ইরানের উপর আচমকাই হামলা করেছিল ইজরায়েল। তেল আভিভের তরফ থেকে দাবী করা হয়েছিল ইরান গোপনে পরমাণু বোমা তৈরি করছে। আর এতে ইজরায়েলের উপ সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ইরানের উপর হামলা চালানো হয়। পরে আমেরিকাও নিজের বি-১২ বোম্বার দিয়ে আকাশপথে হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সেই সংঘাতে জড়িয়ে পরাতে বিশ্ব রাজনীতিতে শোরগোল পরে গিয়েছিল। সেই যুদ্ধ ১২ দিন স্থায়ী হয়ে দুই দেশ যুদ্ধবিরতির পথে এগোয়।
চলতি বছরে আমেরিকার সঙ্গে পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য রাজি হয় তেহরান। ইরানের তরফ থেকে জানানো হয় তারা নিজেদের সংরক্ষিত ইউরেনিয়াম আমেরিকাকে হস্তান্তর করতে রাজি। কিন্তু সেই আলোচনার মাঝেই হঠাৎ ইরানের উপর যৌথ হামলা চালায়। সেই হামলায় নিহত হয় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনিই। আর এরপরই অপ্রতিরোধ্য হামলা চালায় ইরান। আঘাত হানা হয় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে, পশ্চিম এশিয়ায় থাকা মার্কিন দূতাভাসে, ইজরায়েলের পরমানবিক পরীক্ষাকেন্দ্রে। আর এই সব কিছুকে ছাড়িয়ে গোটা বিশ্বকে চমকে দিয়ে ইরানের মাটি থেকে প্রায় ৪০০০ কিলোমিটার দূরে ভারত মহাসাগরে আমেরিকা-ব্রিটেনের যৌথ সামরিক ঘাঁটি দিয়াগো কার্সিয়াতে হামলা চালায় ইরান। আর এতেই ইরানের হামলা চালানোর পরিসীমা নিয়ে রীতিমত নড়েচড়ে বসেছে গোটা বিশ্ব।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে উত্তেজনা চরমে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক পদক্ষেপ, অন্যদিকে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। সংঘাত দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। ইজরায়েলের একাধিক অঞ্চলে হামলার ফলে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের খবর মিলেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রও এই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।