ওঙ্কার ডেস্ক: নিজেকে শান্তর প্রতীক হিসাবে তুলে ধরতে একসময় নিজেকে নোবেল শান্তি পুরষ্কারের যোগ্য দাবিদার বলে মেতে উঠছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আরও একবার পোপ লিও-র প্রতি অসঙ্গতি পুর্ন বার্তা দিয়ে নিজেকে যিশুর সঙ্গে তুলনা করে ছবিও প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। সেই ছবি নিয়ে বিতর্কও খুব হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে। কিন্তু ট্রাম্পের সেই যিশু অবতারের ছবি নিয়ে একটি কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে আরও একটি ভিডিও প্রকাশ করে ট্রাম্পকে চরম কটাক্ষ করে ইরান।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে তাঁর একটি কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি ছবি ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে আন্তর্জাতিক স্তরে। ওই ছবিতে তাঁকে যিশু খ্রিস্টের মতো এক ‘অলৌকিক আরোগ্যদাতা’ রূপে দেখানো হয়, যেখানে সাদা পোশাকে এক অসুস্থ ব্যক্তির মাথায় হাত রেখে তাকে সুস্থ করে তুলছেন তিনি। খ্রিস্টধর্মে যিশুর অলৌকিক চিকিৎসাশক্তির সঙ্গে এই চিত্রের মিল থাকায় বহু মানুষের কাছে বিষয়টি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হিসেবে ধরা পড়ে। ছবিটি প্রকাশ্যে আসার পরই বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে খ্রিস্টান ধর্মগুরু এবং ধর্মপ্রাণ মানুষদের একাংশ এই উপস্থাপনাকে ‘ধর্মীয় অবমাননা’ বলে আখ্যা দেন। তাঁদের মতে, এটি অনভিপ্রেত এবং তা সামাজিক বিভাজনকে আরও উসকে দিতে পারে।
এই বিতর্কের আবহেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় ইরান। ইরানের পক্ষ থেকে একটি কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার দ্বারা নির্মিত ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যেখানে ট্রাম্পের সেই যিশু-সদৃশ চিত্রকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ভিডিওটিতে যিশুর চরিত্রকে এমনভাবে দেখানো হয়, যা সরাসরি ট্রাম্পের সেই ছবির বিরোধিতা করে এবং তাঁকে অপদস্থ করার ইঙ্গিত দেয়। ভিডিওটিতে দেখা যায় স্বয়ং যিশু ট্রাম্পকে সজোরে আঘাত করে যার ফলে ট্রাম্প রক্তাত হয়ে যায়। এরপর যিশুর ধাক্কায় ট্রাম্প নরকের দিকে পড়ে যেতে দেখা যায় ভিডিওটিতে। ইরানের প্রকাশিত এই ভিডিও নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আবারও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ধরনের ডিজিটাল পাল্টাপাল্টি কটাক্ষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।