ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার আবহে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, একাধিক দফার গোপন ও প্রকাশ্য আলোচনার পর উভয় পক্ষই এমন একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক অস্থির পরিস্থিতিকে অনেকটাই শান্ত করতে পারে। তবে এখনও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতভেদ থাকায় চুক্তি স্বাক্ষরের দিনক্ষণ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গিয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলিতে মার্কিন-ইরান সম্পর্ক নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরমাণু কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে একাধিকবার সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়ে তোলে, কারণ বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ফলে যে কোনও সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে।
কূটনৈতিক মহলের দাবি, বর্তমানে যে চুক্তির খসড়া নিয়ে আলোচনা চলছে, তার অন্যতম লক্ষ্য হল উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ তৈরি করা। আলোচনায় উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়। একই সঙ্গে ইরানের পরমাণু কার্যক্রম নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ কমানোর লক্ষ্যে কিছু নতুন শর্ত এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, তেহরানের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদের ওপর বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া। আলোচনার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই বিষয়গুলিও গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চুক্তি কার্যকর হলে ইরানের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশটির অংশগ্রহণ বাড়তে পারে।
তবে সবকিছুই এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। মার্কিন প্রশাসন এবং ইরানি কর্তৃপক্ষ উভয়েই সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে। কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা দেয়নি। ফলে কূটনৈতিক পর্যায়ে আশাবাদের পরিবেশ তৈরি হলেও বাস্তবে চুক্তি কার্যকর হওয়া পর্যন্ত সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই সমঝোতা সফল হয়, তবে তা শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেই নয়, গোটা পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও সংঘাতের আবহ কাটিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে এগোনো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, শেষ মুহূর্তে জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই বিশ্বের নজর এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই।