ওঙ্কার ডেস্ক: কালীঘাটে তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠকে আচমকাই প্রকাশ্যে চলে আসে দলের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ। বৈঠকে উপস্থিত শীর্ষ নেতৃত্বের সামনেই তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় শেষ পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হয় দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
দলীয় সূত্রের খবর, সাম্প্রতিক সাংগঠনিক রদবদল এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনার সময় মতানৈক্যের সূত্রপাত হয়। বৈঠকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে অবিলম্বে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি তোলেন কুণাল ঘোষ। তিনি মনে করেন, বিষয়টি নিয়ে আর দেরি না করে দ্রুত পদক্ষেপ করা প্রয়োজন। এর উত্তরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বিষয়টি নিয়ে পরে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই। এই মন্তব্যের পরই দুই নেতার মধ্যে তর্ক শুরু হয়।
বৈঠকের মধ্যেই কুণাল ঘোষ নিজের বক্তব্যে অনড় থাকেন এবং বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জবাবে অভিষেকও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। এরপরই আলোচনা ব্যক্তিগত অভিযোগ-প্রত্যাঘাতের দিকে মোড় নেয়। সূত্রের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকারী সুমিত রায়কে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদমাধ্যমে করা কিছু মন্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, কুণাল ঘোষ বারবার সুমিত রায়কে আক্রমণ করে মন্তব্য করেছেন, যা দলের পক্ষে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করছে।
এর পাল্টা জবাবে কুণাল ঘোষ বলেন, সুমিত রায় কোনও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বা দলীয় নেতা নন। তাই তাঁর বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করা হলে তা নিয়ে এত বিতর্কের কারণ নেই। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার কোনও উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। তবে এই ব্যাখ্যায় পরিস্থিতি শান্ত না হয়ে আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উপস্থিত নেতাদের একাংশ দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও কিছু সময়ের জন্য বৈঠকের পরিবেশ অস্বস্তিকর হয়ে পড়ে।
এই অবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন। তিনি দুই নেতাকেই সংযত থাকার পরামর্শ দেন এবং দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার উপর জোর দেন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সূত্রের খবর, মমতা স্পষ্ট বার্তা দেন যে ব্যক্তিগত মতপার্থক্য প্রকাশ্যে না এনে সাংগঠনিক মঞ্চেই তার সমাধান খুঁজতে হবে।
পরে প্রবীণ নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেন। তাঁর মধ্যস্থতার পর বৈঠকের আলোচনা আবার মূল এজেন্ডায় ফিরে আসে। যদিও ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের অন্দরে একাধিক সাংগঠনিক পরিবর্তন, নেতৃত্ব নিয়ে মতবিরোধ এবং বিভিন্ন ইস্যুতে প্রকাশ্য মন্তব্যের জেরে দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। কালীঘাটের এই বৈঠকের ঘটনাও সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিল।
তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, মতবিনিময় এবং বিতর্ক গণতান্ত্রিক দলের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। কোনও মতানৈক্য থাকলেও তা দলীয় কাঠামোর মধ্যেই সমাধান করা হবে।