ওঙ্কার ডেস্ক: দীর্ঘ অশান্তির পর ইসলামাবাদে শান্তি বৈঠকের জন্য রাজি হলেও শেষ পর্যন্ত কোন স্থায়ী সমাধানে পৌঁছায়নি দুই পক্ষ। আমেরিকা দাবী করে ইরান সমঝোতাতে রাজি নয়। অন্যদিকে তেহরানও দাবী কএ আমেরিকা শান্তিচুক্তির নামে দেশের সর্বভৌম্যত্বে হস্তক্ষেপ করতে চাইছে। পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়।ফলে প্রায় ২১ ঘন্টার সেই আলোচনা কার্যত ভেস্তে যায়। মার্কিন সূত্রে জানা গেছে আবার আলোচনার টেবিলে বসতে পারে দুই পক্ষ। হতে পারে পরমাণু বিষয়ক পর্যালোচনা।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, দীর্ঘ আলোচনার পর দুই দেশের মধ্যে পরমাণু সংক্রান্ত সম্ভাব্য সমঝোতা প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত এগিয়েছিল। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিত রাখার সময়সীমা নিয়ে গুরুতর মতপার্থক্যের জেরে শেষ পর্যন্ত চুক্তি চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। সাম্প্রতিক এই বৈঠকে মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মার্কিন পক্ষের দাবি ছিল, ইরানকে অন্তত ২০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে। ওয়াশিংটনের মতে, দীর্ঘমেয়াদি এই স্থগিতাদেশই আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হবে।
অন্যদিকে ইরান এই প্রস্তাবে সম্মত হয়নি। তেহরানের অবস্থান ছিল, তারা সর্বোচ্চ ৫ বছরের জন্য এই কর্মসূচি স্থগিত রাখতে প্রস্তুত। ইরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত, এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য তা বন্ধ রাখা তাদের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। ফলে সময়সীমা নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান একেবারেই ভিন্ন হওয়ায় আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়।
কূটনৈতিক মহলের মতে, যদিও বেশ কিছু বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল, তবুও এই একটি ইস্যুই চুক্তির পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি আলোচনার এক পর্যায়ে মাঝামাঝি কোনও সমাধান যেমন ১০ থেকে ১৫ বছরের একটি সময়সীমা নিয়ে ভাবনাচিন্তাও হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত কোনও গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই চুক্তি সম্পন্ন হত, তাহলে তা শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলত না, বরং গোটা অঞ্চলে উত্তেজনা হ্রাসের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারত। তবে আশার কথা, আলোচনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে আবার সংলাপে বসার ইঙ্গিত দিয়েছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে, এবং আন্তর্জাতিক মহলও এই ইস্যুতে সমঝোতার পথ খুঁজে বের করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে চলেছে। একটি স্থায়ী ও কার্যকর সমাধানে পৌঁছাতে হলে উভয় পক্ষকেই নিজেদের অবস্থানে নমনীয়তা দেখাতে হবে এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।