ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত স্ট্রেট অব হরমুজ অবরোধ নীতিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে মতবিরোধ সামনে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কের স্টারমার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাজ্য এই অবরোধ নীতিকে সমর্থন করবে না এবং এতে কোনওরকম অংশগ্রহণও করবে না।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এই অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য। স্টারমারের বক্তব্য অনুযায়ী, স্ট্রেট অব হরমুজের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অবরোধ আরোপ করলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব ফেলবে। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
স্ট্রেট অব হরমুজ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ, যার মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এবং জ্বালানি সরবরাহ হয়। এই পথটি অবরুদ্ধ হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়তে পারে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বড়সড় বিঘ্ন ঘটতে পারে। ইতিমধ্যেই এই সম্ভাবনা ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে একাধিক দেশ এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
স্টারমার আরও জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য এই সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজতে আন্তর্জাতিক স্তরে সমন্বয় গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে একটি যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীতে অবাধ নৌ-চলাচল বজায় রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তার মতে, এই ধরনের বহুপাক্ষিক উদ্যোগই বর্তমান সংকট নিরসনে কার্যকর হতে পারে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন এই অবরোধ নীতিকে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করার একটি কৌশল হিসেবে দেখছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানকে তাদের নীতিগত অবস্থান পরিবর্তনে বাধ্য করা যেতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের মতে, এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও উসকে দিতে পারে এবং বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা বাড়াতে পারে। শুধু ব্রিটেনই নয়, ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশও এই অবরোধ পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে। তারা মনে করছে, সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বদলে সংলাপ এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই উত্তেজনা কমানো সম্ভব। এই অবস্থান থেকে স্পষ্ট যে, পশ্চিমা বিশ্বেও এই ইস্যুতে একক মত নেই।