ওঙ্কার ডেস্ক: চলতি সপ্তাহেই ফের আবার শান্তি বৈঠকে বসতে পারে ইরান আমেরিকা, এমন গুঞ্জনই শোনা যাচ্ছে ট্রাম্প শিবিরের অন্দরে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে আবারও কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, দুই দেশ নতুন করে সরাসরি বৈঠকে বসতে আগ্রহী এবং সেই বৈঠক চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে পারে বলেও অনুমান করা হচ্ছে।
সম্ভাব্য বৈঠকের স্থান হিসেবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের নাম উঠে এসেছে ইসলামাবাদ এবং জেনেভা। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবুও উভয় পক্ষই আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে বলে কূটনৈতিক মহলে জানা গেছে। এর আগে ইসলামাবাদে প্রায় ২১ ঘন্টা সময় ধরে শান্তি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে কোনও নির্দিষ্ট সমঝোতায় পৌঁছনো সম্ভব হয়নি। আলোচনা ভেস্তে যাবার পরই দুই দেশই একে অপরকে দোষারোপ করতে থাকে। সেই ব্যর্থতার পরই নতুন করে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে এবং উভয় দেশই আরও একবার আলোচনার টেবিলে ফিরতে সম্মত হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সম্ভাব্য বৈঠকের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি, কারণ দুই দেশের মধ্যে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির সময়সীমা দ্রুত শেষের দিকে এগোচ্ছে। এই যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগেই একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছনোর জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আলোচনায় সফলতা এলে তা শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই নয়, গোটা পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন যে ইরান আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছে এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছতে চায়। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, আলোচনায় বসার আগে তেহরানকে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত মানতে হবে। এই শর্তগুলির মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক কর্মসূচির স্বচ্ছতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত কিছু বিষয়। অন্যদিকে ইরানও তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তেহরানের তরফে জানানো হয়েছে, তারা আলোচনায় রাজি থাকলেও দেশের সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে এখনও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতভেদ রয়ে গেছে।
বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার নিয়ে মতবিরোধই আলোচনার প্রধান বাধা হিসেবে উঠে আসছে। এই বিষয়গুলির সমাধান না হলে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছনো কঠিন হবে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চয়তায় ঘেরা থাকলেও, নতুন করে আলোচনার উদ্যোগকে ইতিবাচক দিক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলের আশা, এই সংলাপের মাধ্যমে অন্তত একটি স্থিতিশীল সমাধানের পথে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হবে এবং দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কিছুটা হলেও প্রশমিত হবে।