ওঙ্কার ডেস্ক: নয়ডার শিল্পাঞ্চলে মজুরি বৃদ্ধির দাবিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া শ্রমিকদের বিক্ষোভ অল্প সময়ের মধ্যেই ভয়াবহ সহিংসতায় পরিণত হয়। প্রথমদিকে শান্তিপূর্ণভাবে দাবিদাওয়া জানাতে রাস্তায় নামলেও, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং একাধিক এলাকায় অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে।
সোমবার সকাল থেকেই ফেজ-২, সেক্টর ৬০, ৬২, ৬৩-সহ বিভিন্ন শিল্প এলাকায় হাজার হাজার শ্রমিক জমায়েত হতে শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কম মজুরি, অস্বাস্থ্যকর কাজের পরিবেশ এবং ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন তাঁরা। পাশের হরিয়ানায় মজুরি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় নয়ডার শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়ে। সেই ক্ষোভ থেকেই বৃহত্তর আন্দোলনের রূপ নেয় এই বিক্ষোভ।
দুপুরের পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের একাংশ রাস্তায় নেমে যান, যান চলাচল বন্ধ করে দেন এবং বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুর চালাতে শুরু করেন। একাধিক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে পাথর ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলিতে তীব্র যানজট তৈরি হয় এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়। উত্তেজনা ছড়ানো এলাকায় টিয়ার গ্যাস ছোড়া হয় এবং বহু জায়গায় লাঠিচার্জ করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে সংঘর্ষ চলার পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এই ঘটনায় ৩০০-রও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও অনেককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে আরও অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
প্রশাসনের দাবি, বিক্ষোভের শুরুতে শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবেই আন্দোলন করছিলেন, কিন্তু পরে কিছু বাইরের লোক সেই ভিড়ে মিশে গিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। এই ঘটনার পিছনে কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার প্রেক্ষিতে সম্ভাব্য বহিরাগত যোগাযোগ বা পাকিস্তানী জঙ্গী গোষ্টীর যোগাযোগ রয়েছে কিনা সেদিকটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
এদিকে রাজ্য সরকারের তরফে শ্রমিকদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে তাঁদের দাবি-দাওয়া গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। শ্রমিক সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে বলেও জানা গেছে। একই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে এবং সহিংসতার পথ পরিহার করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।