ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইজরায়েল ও লেবাননের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সংঘাত ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ লেবাননের একাধিক গ্রাম কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বহু গ্রাম মানচিত্রে থাকলেও বাস্তবে তাদের অস্তিত্ব প্রায় মুছে গিয়েছে। জানা গেছে লেবাননের দক্ষিণের গ্রাম গুলিতে হামলা চালানোর জন্য ইজরায়েল রিমোট চালিত বোমা ব্যবহার করেছে। যার ফলে ঐ এলেকা গুলি বসবাসের অযোগ্য হয়ে ওঠে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত বেশ কয়েকটি গ্রামে ইজরায়েলি সেনাবাহিনী পরিকল্পিতভাবে অভিযান চালায়। অভিযোগ, তারা ঘরবাড়ির ভিতরে বিস্ফোরক বসিয়ে পরবর্তীতে সেগুলি একযোগে উড়িয়ে দেয়। ফলে মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকা ধ্বংস হয়ে যায়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় পাকা বাড়িঘর ভেঙে পড়ে, বহু জায়গায় জমি পর্যন্ত ফেটে যায় এবং আশপাশের পরিবেশ সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে ওঠে। স্যাটেলাইট চিত্র ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে, বিস্ফোরণের পর বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে শুধুই ধ্বংসস্তূপ পড়ে রয়েছে। একসময়ের জনবসতিপূর্ণ গ্রাম এখন পরিণত হয়েছে জনমানবহীন বিরানভূমিতে। বহু পরিবার তাদের সমস্ত কিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র পালিয়ে গিয়েছেন।
ইজরায়েলের তরফে দাবি করা হয়েছে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ছিল হেজবোল্লাহ-সংক্রান্ত ঘাঁটি ও অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস করা। তাদের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী এই গ্রামগুলির ভিতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল সামরিক পরিকাঠামো, যা থেকে ইজরায়েলের উপর হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। সেই কারণেই নিরাপত্তার স্বার্থে এই ধরনের কঠোর অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে এই ব্যাখ্যা ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলি অভিযোগ করেছে, এভাবে বেসামরিক বসতিপূর্ণ এলাকা ধ্বংস করা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও যুদ্ধবিধির পরিপন্থী হতে পারে। তাদের মতে, সামরিক লক্ষ্যবস্তু থাকলেও গোটা গ্রাম উড়িয়ে দেওয়া কোনওভাবেই ন্যায্য নয় এবং এর ফলে নিরীহ মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে।
এই অভিযানে বহু মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে, পাশাপাশি আহতের সংখ্যাও অনেক। যদিও সঠিক পরিসংখ্যান এখনও স্পষ্ট নয়, তবে স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলি জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেক মানুষ চাপা পড়ে থাকতে পারেন। উদ্ধারকাজ চালানো হলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে তা বারবার ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে, এই ঘটনার জেরে সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন নতুন করে হামলার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বহু মানুষ ইতিমধ্যেই বাস্তুচ্যুত হয়ে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন, যেখানে খাদ্য, জল ও চিকিৎসার মতো মৌলিক পরিষেবার ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। ইজরেয়েলি হামলায় লেবানন যেন গাজার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠছে বলে মনে করেছেন অনেকে।