ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা ফের চরমে পৌঁছেছে। বুধবার গভীর রাতে ইরানের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, হরমুজ প্রণালী এবং তার আশপাশে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে এই হামলার পরই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই সংঘাত আর সীমিত পর্যায়ে নেই, বরং এটি এখন তাদের কাছে ‘অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ’।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, মার্কিন হামলার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির সব সম্ভাবনাই কার্যত শেষ হয়ে গিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরান সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত এবং প্রয়োজন হলে আরও কঠোর সামরিক জবাব দেওয়া হবে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালীতে চাপ সৃষ্টি করার ইঙ্গিতও দিয়েছে তেহরান। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান যদি উসকানিমূলক পদক্ষেপ চালিয়ে যায়, তাহলে আরও বড় সামরিক অভিযান চালানো হবে। তিনি বলেন, শুধুমাত্র সামরিক ঘাঁটি নয়, প্রয়োজন হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে আনা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
এই সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে পশ্চিম এশিয়া জুড়ে। বিভিন্ন দেশ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে। এদিকে, যুদ্ধের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক বাজারেও। মার্কিন মহল জানিয়েছে তারা হরমুজ প্রণালীর দখল নেবে। এই পরিস্থিতিতে সেখানে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে ফের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। কিছু দিন জ্বালানী সরবরাহ কিছুটা প্রশমিত হলেও ফের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তৈরি হচ্ছে।