ওঙ্কার ডেস্কঃ পাঁচ সপ্তাহের যুদ্ধের পর অবশেষে শান্তির পথে মধ্যপ্রাচ্য। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য বৃহৎ সামরিক সংঘর্ষের আশঙ্কা যখন তীব্র আকার ধারণ করেছিল, ঠিক সেই সময়েই দুই পক্ষের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজের পূর্ব নির্ধারিত সময়সীমার আগেই আক্রমণাত্মক অবস্থান থেকে সরে এসে দুই সপ্তাহের জন্য সামরিক অভিযান স্থগিত রাখতে সম্মত হন, যা মধ্যপ্রাচ্যের উদ্বেগপুর্ন পরিস্থিতিকে কিছুটা হলেও প্রশমিত করেছে।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি এই প্রসঙ্গে বলেন, এই যুদ্ধবিরতি কোনও একতরফা পদক্ষেপ নয়, বরং পারস্পরিক শর্তের উপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা ইরানের উপর সমস্ত ধরনের সামরিক আক্রমণ বন্ধ রাখে, তাহলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও তাদের প্রতিরক্ষামূলক অভিযান স্থগিত করবে। অর্থাৎ, যুদ্ধ থামানোর দায় দুই পক্ষের উপরই বর্তায়।
এই সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা চলছিল এবং ইরানের কড়াকড়ি নজরদারির কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও প্রভাব পড়ছিল। যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ইরান জানায়, সীমিত পরিসরে জাহাজ চলাচল আবার চালু করা হবে, তবে তা সম্পূর্ণভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণ ও নির্দিষ্ট শর্তের মধ্যে থাকবে।
একইসঙ্গে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ করা একটি পোস্টেও তিনি একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে, “ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন বন্ধ হলে আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীও তাদের অভিযান থামাবে।” তিনি আরও জানান, এই দুই সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হবে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হলেও তা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নয়, বরং ইরানের সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে এবং নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই চলাচল করতে হবে।
এই অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যে তাৎক্ষণিক সংঘর্ষের সম্ভাবনা কমালেও পরিস্থিতি এখনও যথেষ্ট অনিশ্চিত। পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক আধিপত্যের প্রশ্নে দুই দেশের মধ্যে গভীর মতভেদ রয়ে গেছে। ফলে এই সমঝোতা দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথে প্রথম ধাপ হতে পারে, আবার যেকোনও মুহূর্তে নতুন করে উত্তেজনার জন্মও দিতে পারে এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।