ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে ব্যতিক্রমী পদক্ষেপের নিচ্ছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কড়া হুমকির জবাবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিকে ঘিরে মানববন্ধন গড়ে তোলার আহ্বান জানাল ইরান। এই কর্মসূচিতে দেশের যুবসমাজকে এগিয়ে আসার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরানের ক্রীড়া ও যুব মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশের তরুণ-তরুণী, ছাত্রছাত্রী, ক্রীড়াবিদ ও সাংস্কৃতিক জগতের মানুষদের নির্দিষ্ট সময়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির চারপাশে জড়ো হতে বলা হয়েছে। এই মানবশৃঙ্খল কর্মসূচিকে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, যার মূল উদ্দেশ্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষার এবং আন্তর্জাতিক স্তরে এক ধরনের রাজনৈতিক সংকেত পৌঁছে দেওয়া।
এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে আমেরিকার কঠোর অবস্থান। ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, যদি ইরান হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত তাদের অবস্থান না বদলায়, তবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিশেষত বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। এই হুমকির প্রেক্ষিতেই ইরানের তরফে এমন প্রতীকী প্রতিবাদ সংগঠিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা একদিকে যেমন প্রতিরোধের বার্তা দিচ্ছে, তেমনই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কেও বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছে। তাঁদের মতে, বেসামরিক অবকাঠামোর উপর আক্রমণ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধ আইন অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ কেবল প্রতীকী নয়, বরং এটি ইরানের কৌশলগত অবস্থান, যেখানে সরাসরি সামরিক প্রতিক্রিয়ার বদলে জনসমর্থন ও আন্তর্জাতিক জনমতকে হাতিয়ার করা হচ্ছে। তবে এই পরিস্থিতি যে দ্রুতই আরও জটিল রূপ নিতে পারে, তা নিয়ে আশঙ্কা বাড়ছে।