ওঙ্কার ডেস্কঃ হুমকি, হুঁশিয়ারির পর শনিবার ইরানে যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল এবং আমেরিকা। যুদ্ধে জ্বলছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। ইজরায়েল এবং আমেরিকার যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। ইরানের সুপ্রিম লিডারের মৃত্যুর পর ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে কুখ্যাত ব্যক্তি আয়তোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছে।’ ইজারায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর গলাতেও ছিল প্রশান্তির সুর। কিন্তু ইরানের সুপ্রিম লিডারকে কীভাবে খতম করল আমেরিকা এবং ইজরায়েল?
সূত্রের খবর, বেশ কয়েকমাস আগে থেকেই খামেনেইকে হত্যার নিখুঁত পরিকল্পনা করে ইজরায়েলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ এবং এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি। রীতিমতো প্ল্যান ছকে খামেনেইয়ের ঘনিষ্ঠদের উপর গোপনে নজরদারি শুরু হয়। ইরানের সুপ্রিম লিডারের অবস্থান সম্পর্কে অবগত হন গোয়েন্দারা। সূত্রের খবর, খামেনেইয়ের কার্যালয়ের আশপাশে থাকা বেশ কিছু সিকিউরিটি ক্যামেরাও নাকি হ্যাক করা হয়।
খামেনেইয়ের মৃত্যুতে অন্তর্ঘাত তত্ত্বও প্রকট হচ্ছে। জানা গিয়েছে, শনিবার কয়েকজন উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে নিজের কার্যালয়ে একটি গোপন বৈঠকে বসেছিলেন খামেনেই। আর সেই গোপন বৈঠকের খবর, ইরান সরকারের ভিতর থেকেই কেউ বা কারা মোসাদকে জানিয়েছিলেন। সেখান থেকে সব তথ্য পেয়ে ইজরায়েলের গুপ্তচর সংস্থা মারণ হামলা চালিয়েছে বলে খবর। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, সাধারণত এধরনের হামলা রাতের অন্ধকারে চালানো হয়। কিন্তু খামেনেইয়ের অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট পোক্ত তথ্য পেতেই আর দেরি করেনি মোসাদ।
বিবিসির খবর অনুযায়ী, তেহরানে খামেনেইর অফিস কার্যত ধুলিসাৎ। উপগ্রহ চিত্র এই ধ্বংসের প্রমাণ। গত বছরের শেষ থেকে ইরানে খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে পথে নেমেছিলেন হাজার হাজার মানুষ। খামেনেইয়ের মৃত্যুও চেয়েছিলেন তারা। তাঁদেরকে সমর্থন করেছিলেন ট্রাম্প। তবে খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরানের মোল্লাতন্ত্রের কি অবসান ঘটবে? সেটাই এখন প্রশ্ন।
