ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালীতে সম্ভাব্য অবরোধের হুমকি ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যখন উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মদম্মদ বাঘের গালিবাফ এক অভিনব ভঙ্গিতে আমেরিকাকে কটাক্ষ করলেন। তিনি সরাসরি সামরিক বা কূটনৈতিক ভাষায় নয়, বরং ‘গাণিতিক যুক্তি’ ব্যবহার করে বোঝানোর চেষ্টা করেন, এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দামের কী ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে।
গালিবাফের বক্তব্য, হরমুজ প্রণালী শুধু একটি সামুদ্রিক পথ নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান ধমনী। এই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল প্রতিদিন বিশ্ববাজারে পৌঁছায়। ফলে এই অঞ্চলে যদি কোনও রকম অবরোধ বা সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়, তার সরাসরি প্রভাব পড়ে জ্বালানির দামে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি সরলরৈখিক নয়, বরং জটিল ও সমসাময়িক পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে তা বৃদ্ধি পেতে থাকবে। অর্থাৎ, সামান্য উত্তেজনা বা বাধা তৈরি হলেও তার প্রভাব বহুগুণে বাড়তে পারে। গালিবাফের কথায়, যদি অবরোধ কার্যকর হয়, তাহলে শুধু ইরান নয়, বরং গোটা বিশ্বই জ্বালানি সংকটে পড়বে।
এই প্রসঙ্গে তিনি আমেরিকার সাধারণ মানুষের দিকেও ইঙ্গিত করেন। তাঁর মন্তব্য, বর্তমানে যে দামে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে, সেই দাম খুব শিগগিরই অতীত হয়ে যাবে এবং মানুষ সেই পুরনো সস্তা দিনের দামের জন্য নস্টালজিক হয়ে পড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে যে কোনও ধরনের অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াতে পারে। পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি সবকিছু মিলিয়ে এক চেইন রিঅ্যাকশন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যা আখিরে গিয়ে সাধারণ মানুষকেই সমস্যায় ফেলবে।