ওঙ্কার ডেস্ক : বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ। তাঁর ক্ষুদ্রঋণ মডেল নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। প্রাক্তন বাংলাদেশী গোয়েন্দা কর্তা আমিনুল হক পলাশ দাবি করেছেন, ১৯৭৬-১৯৮৩ সাল পর্যন্ত একাধিক আর্কাইভাল নথিপত্র দেখে তিনি যে প্রমাণ পেয়েছেন তা মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাঙ্কের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে। অথচ গ্রামীণ ব্যাঙ্কের মডেলটি তাঁর ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরষ্কার পাওয়ার পিছনে মূল কৃতিত্ব হিসেবে ধরা হয়েছিল। বলাবাহুল্য, বাংলাদেশের গ্রামীণ ব্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ব্যাপকভাবে স্বীকৃতি দেয় ইউনূসকে। অথচ এটি তাঁর চুরি করা আর্থিক মডেল বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন গোয়েন্দা কর্তা আমিনুল হক পলাশ। সংবাদ সংস্থা আইএএনএসকে তিনি বলেছেন, কয়েক দশকের পুরনো নথিপত্রের অনুসন্ধান করতে গিয়ে তিনি এই তথ্য পেয়েছেন।
আমিনুল হক পলাশ বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এবং পরে একজন কূটনীতিক হিসেবে দশ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি নির্বাসনে। ইউনূস সরকারের নিপীড়নের লক্ষ্য হওয়ার কারণে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন বলে জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, “নথিগুলি দেখলেই বোঝা যাবে যে ক্ষুদ্রঋণ মডেলটি আসলে জুনিয়র গবেষকদের দ্বারা তৈরি একটি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা প্রকল্প ছিল। পরে ইউনূস এটি হাইজ্যাক করেছিলেন এবং সেই সব কাগজপত্রেও তাঁর স্বাক্ষর রয়েছে।”
গ্রামীণ ব্যাঙ্কের মডেলটি এমন, যার অধীনে কোনও গ্যারেন্টি ছাড়াই দরিদ্র পরিবারগুলিকে ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ করা হয়। এই প্রকল্প এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে এটি বিশ্বব্যাপী অনুসরণযোগ্য হয়ে উঠেছিল। যার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের কিছু শহরও অন্তর্ভুক্ত ছিল। আমিনুল হক পলাশের দাবি, নথিগুলি প্রমাণ করে ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আবিষ্কৃত হয়, যেখানে মুহম্মদ ইউনূস একজন অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। ওই নথিতে বলা হয়েছে, “গ্রামীণ অর্থনীতি কর্মসূচি ১৯৭৬ সালে ফোর্ড ফাউন্ডেশনের অনুদানে চালু করা হয়েছিল এবং জোবরা গ্রামে প্রথম ক্ষুদ্রঋণ পরীক্ষামূলক ভাবে শুরু হয়। এটি ছিল একটি কর্ম-গবেষণা প্রকল্প যা স্বপন আদনান, নাসিরুদ্দিন এবং এইচ.আই. লতিফি নামে গবেষকদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল। ইউনূসকে কেবল গভীর নলকূপ সমবায় ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।” এতে আরও দাবি করা হয়েছে যে ইউনূস যোগদানের আগেই বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক ক্ষুদ্রঋণ মডেল গ্রহণ করেছিল এবং একে সারা দেশে চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।
১৯৮৩ সালের ৬ জুন তারিখের আরেকটি চিঠিতে দেখা যায় যে ফোর্ড ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে তার গ্রামীণ অর্থায়ন কর্মসূচিকে সমর্থন করার জন্য অনুদান অনুমোদন করেছিল। ১৯৭৬ সালে একটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্মসূচি হিসেবে প্রাথমিকভাবে শুরু হওয়া ক্ষুদ্রঋণ মডেলটি অবশেষে একটি স্বাধীন ব্যাঙ্ক হিসেবে কাজ করার জন্য সরকারি ভাবে অনুমোদিত হওয়ার পর একটি জাতীয় প্রকল্পে পরিণত হয়। ইউনূস তার প্রকল্প পরিচালক হন। ১৯৮৩ সালের গ্রামীণ ব্যাঙ্ক স্বীকৃত হওয়ার পর তিনি এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ভূমিকা গ্রহণ করেন। ১৯৯০-এর দশকের মধ্যে তিনি প্রতিষ্ঠানটির উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ অর্জন করেন, যা জনসাধারণের তহবিল দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই প্রাক্তন গোয়েন্দা কর্তা আরও দাবি করেছেন যে বাংলাদেশ ১৯৭০-এর দশকে যা দেখেছিল তার একটি ঘাটতি প্রত্যক্ষ করছে।
আমিনুল হক পলাশের অভিযোগ, বিখ্যাত এই ক্ষুদ্রঋণ মডেলকে হাইজ্যাক করা ব্যক্তি ২০২৪ সালে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পর এখন রাষ্ট্রযন্ত্র দখল করার চেষ্টা করছেন এবং বাধা দূর করতে, অনুগতদের পুরস্কৃত করতে এবং তার নেটওয়ার্ককে সমৃদ্ধ করতে এটি ব্যবহার করছেন। তাঁর আরও অভিযোগ, “একই ব্যক্তি যিনি একটি গ্রামীণ গবেষণা প্রকল্প চুরি করেছিলেন তিনি এখন একই ধরণের দখলের লোভে পুরো দেশ শাসন করছেন।”
