ওঙ্কার ডেস্ক: অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর আবারও মানবসভ্যতার দৃষ্টি ফিরল চাঁদের দিকে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা-র ঐতিহাসিক আর্টেমিস ২ মিশনের সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে শুরু হল মানবজাতির নতুন এক মহাকাশ অভিযাত্রা। এই মিশনের মধ্য দিয়েই দীর্ঘ বিরতির পর মানুষ আবার পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে গভীর মহাকাশে পা রাখল।
স্থানীয় সময় অনুযায়ী ১ এপ্রিল শক্তিশালী স্পেস লঞ্চ সিস্টেম রকেটের সাহায্যে উৎক্ষেপণ করা হয় মহাকাশযান ওরিয়ন মহাকাশযান। এই অভিযানে রয়েছেন চারজন মহাকাশচারী রিড উইসম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং জেরেমি হ্যানসেন। এই দলটি বিভিন্ন দিক থেকে ইতিহাস গড়েছে। ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী হিসেবে গভীর মহাকাশ অভিযানে অংশ নিচ্ছেন, ভিক্টর গ্লোভার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী হিসেবে চাঁদের পথে পা বাড়িয়েছেন এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন হিসেবে পৃথিবীর কক্ষপথ ছাড়িয়ে যাচ্ছেন।
প্রায় ১০ দিনের এই অভিযানে মহাকাশচারীরা চাঁদের কক্ষপথ ঘুরে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। এটি কোনও অবতরণ মিশন নয়, বরং একটি ‘ফ্লাইবাই’ বা প্রদক্ষিণমূলক অভিযান। মহাকাশযানটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ লক্ষ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে চাঁদের অদৃশ্য অংশ ঘুরে আসবে, যা মানব অভিযানের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
এই মিশনের মূল লক্ষ্য ভবিষ্যতের আরও জটিল অভিযানের জন্য প্রযুক্তিগত ও মানবিক প্রস্তুতি যাচাই করা। বিশেষ করে মহাকাশযানের জীবনরক্ষা ব্যবস্থা, যোগাযোগ প্রযুক্তি, নেভিগেশন এবং দীর্ঘ সময়ের মহাকাশ ভ্রমণে মানুষের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা পরীক্ষা করা হবে। এই তথ্যগুলো ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযান, বিশেষ করে মানুষের চাঁদের মাটিতে অবতরণের পরিকল্পনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো ১৭ মিশনের পর এই প্রথম মানুষ পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ ছেড়ে এত দূরে পাড়ি দিচ্ছেন। ফলে এই অভিযান শুধু প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, বরং এক ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মিশনের সাফল্যই পরবর্তী আর্টেমিস ৩ অভিযানের পথ প্রশস্ত করবে, যার লক্ষ্য চাঁদের মাটিতে আবার মানুষের পদচিহ্ন স্থাপন করা। পাশাপাশি ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানব অভিযানের স্বপ্ন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও এই মিশন গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।