ওঙ্কার ডেস্ক : টানা দুদিন বিক্ষোভের পর পদত্যাগ করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর বর্তমানে সেদেশের ক্ষমতার রাশ হাতে নিয়েছে নেপালের সেনাবাহিনী। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে বিদ্রোহীরা চাইছেন নেপালের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে। দেশটির সেনা কার্কিকে মেনে নেবে কিনা তা নিয়ে যদিও প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে।
সুশীলা কার্কি নেপালের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বুধবার আন্দোলনকারী ছাত্র যুবরা দেশটির রাজধানী কাঠমান্ডুতে বিশেষ সভা করে কার্কিকে প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসানোর জন্য সর্বসম্মত ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অনেকে দৈহিক ভাবে উপস্থিত থাকতে না প্রলেওভার্চুয়াল মাধ্যমে সেই সভায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে বিদ্রোহী ছাত্র যুবদের প্রস্তাব নেপালের সেনাবাহিনী মেনে নেবে কি না, তা এখনও পরিষ্কার নয়। এর আগে বিদ্রোহীদের একাংশ নেপালের প্রধানমন্ত্রীর মুখ হিসেবে সামনে এনেছিল কাঠমান্ডুর নির্দল মেয়র বছর পঁয়ত্রিশের বলেন্দ্র শাহের নাম। অন্য দিকে, সুশীলা কার্কি সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেবেন কিনা সে বিষয়ে তাঁর তরফে এখনও চূড়ান্ত ভাবে কিছু জানানো হয়নি। সূত্রের খবর, বিক্ষোভকারীরা যখন তাঁর কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য, তখন তিনি ১,০০০ লিখিত স্বাক্ষর চেয়েছিলেন। যদিও প্রথমেই তিনি ২,৫০০-এরও বেশি স্বাক্ষর পেয়েছেন।
উল্লেখ্য, সমাজ মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করাকে কেন্দ্র করে নেপালে তুমুল বিক্ষোভে অংশ নেয় ছাত্র যুবরা। সোমবার থেকে শুরু হওয়া সেই বিক্ষোভ চলে মঙ্গলবারও। বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। চাপে পড়ে কেপি শর্মা ওলির সরকার সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। তাতেও পিছু হঠেনি বিদ্রোহীরা। তারা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানায়। সেই দাবি মেনে ইস্তফা দেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী।
