ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় ইরানকে ঘিরে চলা সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে। দীর্ঘদিন ধরে শিয়া–সুন্নি বিভাজনের ইতিহাস থাকা এই দেশে নতুন করে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতার আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সংঘাতের আবহে ধর্মীয় আবেগ ও রাজনৈতিক চাপ একসঙ্গে কাজ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
ইরানের ঘটনাবলিকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ মিছিল, বিক্ষোভ এবং উত্তেজনার খবর সামনে আসছে। বিশেষ করে বড় শহরগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, কারণ প্রশাসনের আশঙ্কা এই বিক্ষোভ যেকোনও সময় হিংসাত্মক রূপ নিতে পারে। ইতিমধ্যেই কিছু জায়গায় সংঘর্ষের খবর মিলেছে, যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।
অন্যদিকে, সুন্নি সম্প্রদায়ের একটি অংশের মধ্যেও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত মিলছে, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলের একাংশ মনে করছে, এই উত্তেজনা যদি নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তাহলে তা বড় আকারের সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে পরিণত হতে পারে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মীয় মঞ্চ থেকে উসকানিমূলক বক্তব্যের ঘটনাও প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে দেশের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির শীর্ষ ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে তিনি শান্তি, সংযম এবং জাতীয় ঐক্যের বার্তা দেন। স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, বিদেশের সংঘাতকে কেন্দ্র করে দেশের ভেতরে কোনও ধরনের অস্থিরতা বা সহিংসতা বরদাস্ত করা হবে না। একই সঙ্গে সব সম্প্রদায়কে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে সমস্যার মূল গভীরে রয়েছে পাকিস্তানের ভৌগোলিক ও কূটনৈতিক অবস্থান। একদিকে প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে সীমান্ত ও ধর্মীয় যোগাযোগ, অন্যদিকে সৌদি আরবসহ সুন্নি শক্তিগুলির সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা ইসলামাবাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতির চাপ দেশের অভ্যন্তরীণ সামাজিক কাঠামোর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু সাম্প্রদায়িক উত্তেজনাই নয়, নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে হামলা বা অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অতীতে শিয়া সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে একাধিক হামলার নজির থাকায় আতঙ্ক আরও বাড়ছে।