ওঙ্কার ডেস্ক: পাকিস্তানে ফের আততায়ীর গুলিতে খুন হলেন এক প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের চারসাদ্দা জেলার উসমানজাই এলাকায় মঙ্গলবার সকালে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত হন বিশিষ্ট ইসলামিক ধর্মগুরু মৌলানা শেখ মহম্মদ ইদ্রিশ। তিনি স্থানীয় ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন। জানা যায় তিনি পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গীগোষ্টী জইশ-ই-মদম্মদ এর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ট ছিলেন। এই হামলার ঘটনার পর গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে নিজের গাড়িতে করে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন মৌলানা ইদ্রিশ। সেই সময় আগে থেকেই ওত পেতে থাকা দুষ্কৃতীরা তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। হামলায় গুরুতর জখম হন ইদ্রিশ। তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশকর্মীও গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৌলানাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আহত পুলিশকর্মীদের চিকিৎসা চলছে।
মৌলানা শেখ মহম্মদ ইদ্রিশ শুধু ধর্মীয় নেতা হিসেবেই নয়, রাজনৈতিক মহলেও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি পাকিস্তানের একাধিক ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং আফগান তালিবান নেতৃত্বের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ ছিল বলে জানা যায়। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মীয় প্রভাব বিস্তারে তাঁর ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হত। পাশাপাশি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জারদারির নির্দেশে পাক ভূমিতে তালিবান গোষ্টী তেহরিক-ই-তালিবান এর সঙ্গে ইসলামাবাদের মধ্যে শান্তি সমঝোতার মধ্যস্থতা করছিলেন ইদ্রিশ। টিটিপির সঙ্গে শান্তি আলোচনার তীব্র বিরোধিতা করেন পাকিস্তানের স্বঘোষিত ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। টিটিপি-র সঙ্গে আলোচনা নয় বরং স্বশস্ত্র আক্রমণে বিশ্বাসী মুনির বরাবর মহম্মদ ইদ্রিশের বিরোধিতা করে এসেছেন। সেই কারণে তাঁর হত্যাকাণ্ড পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্ব এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করেছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি গভীর শোকপ্রকাশ করে বলেছেন, দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃত্বের উপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁরা দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এটি পরিকল্পিত টার্গেট কিলিং। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন বা গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে মৌলানার উপর পূর্বে একাধিকবার হুমকি এসেছিল বলে নিরাপত্তা মহলের দাবি। বিশেষ করে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে মতাদর্শগত দ্বন্দ্বের জেরেই এই হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য বিগত দুই বছর ধরে পাকিস্তানের মাটিতে থাকা সন্ত্রাসবাদে যুক্ত নানান ব্যাক্তিকে টার্গেট কর আহত্যা করার ঘটনা সামনে আসে।
ঘটনার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়। পুলিশ গোটা এলাকা ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে এবং হামলাকারীদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চলছে। স্থানীয় ধর্মীয় ছাত্র, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায়। দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভও শুরু হয়।