ওঙ্কার ডেস্ক: সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার উপর বড়সড় সাইবার হামলার চেষ্টা হয়েছিল বলে বিস্ফোরক দাবি করলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ এবং ফল ঘোষণার সময় নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল পরিষেবাকে লক্ষ্য করে প্রায় ৬৮ লক্ষ সাইবার আক্রমণের চেষ্টা চালানো হয়। তবে কমিশনের প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা দল সেই সমস্ত হামলা সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এবারের নির্বাচনে অনলাইন ভোট সংক্রান্ত পরিষেবা, ফলাফল প্রকাশ, ভোটার তথ্য এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক তথ্য একত্রে পরিচালনার জন্য বিশেষ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হয়। ভোটের দিন এবং গণনার সময় সেই প্ল্যাটফর্মে বিপুল পরিমাণ ট্রাফিক তৈরি হয়। কমিশনের দাবি, প্রতি মিনিটে কোটি কোটি অনলাইন হিট আসছিল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল সন্দেহজনক এবং ক্ষতিকর সাইবার কার্যকলাপ। এই আক্রমণগুলির উদ্দেশ্য ছিল কমিশনের ওয়েবসাইটকে ধীর করে দেওয়া, তথ্যপ্রবাহে বিঘ্ন ঘটানো অথবা সার্ভার বিকল করে দেওয়া।
সূত্রের খবর, এই সাইবার হামলাগুলির উৎস শুধু দেশের ভিতরেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বিদেশ থেকেও বহু আক্রমণের চেষ্টা হয়। বিশেষ করে ভোটের ফলাফল প্রকাশের সময় কমিশনের সার্ভারের উপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। তবে বহুস্তরীয় সাইবার সুরক্ষা ব্যবস্থা, উন্নত ফায়ারওয়াল এবং রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থার ফলে কোনও বড়সড় প্রযুক্তিগত বিপর্যয় ঘটেনি। নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভোটগণনা বা ফল ঘোষণার কাজে কোনও প্রভাব পড়েনি এবং পুরো প্রক্রিয়াই স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডিজিটাল পরিকাঠামোর উপর নির্ভরতা অনেকটাই বেড়েছে। ভোটার তালিকা, বুথ সংক্রান্ত তথ্য, অনলাইন পরিষেবা, অভিযোগ জমা দেওয়া থেকে শুরু করে ফলাফল দেখা সব ক্ষেত্রেই ডিজিটাল ব্যবস্থার ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই কারণেই সাইবার নিরাপত্তা এখন কমিশনের কাছে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত রাখার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।