ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আদালতের রায় প্রকাশিত হওয়ার পর তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় কঠোর ভাষায় পুরো প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন। বিদেশী সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জয় দাবি করেন, এই রায় কোনও “ন্যায়বিচার” নয়, বরং একটি “রাজনৈতিক ভাবে পরিকল্পিত এবং সাজানো বিচার মাত্র”। তাঁর কথায়, শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল আদালত কোন দিকে এগোবে। তাই রায় ঘোষণার আগে থেকেই তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে আদালত তাঁর মাকে দোষী সাব্যস্ত করবে এবং মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সম্ভাবনাও অত্যন্ত বেশি।
জয় অভিযোগ করেন, মামলাটি অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে এগিয়েছে। কয়েক মাসের মধ্যেই শুনানি শেষ করে রায় ঘোষণা করা হয়েছে, তাঁর মতে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থায় স্বচ্ছ বিচারব্যবস্থা আশা করা যায় না। তিনি আরও দাবি করেন, বিচার শুরু হওয়ার আগেই আইন সংশোধন করা হয়, যাতে রায়কে পূর্বনির্ধারিত পথে নিয়ে যাওয়া যায়। তিনি নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কোনো দেশে এক অনির্বাচিত, সংবিধান বিরোধী এবং গনতন্ত্র বিরোধী কিভাবে দেশের নিয়ম বদলাতে পারে”। তাঁর বক্তব্য, এই বিচার “একটি সম্পূর্ণ ন্যায়বিচারের পরিহাস”, কারণ শেখ হাসিনাকে নিজের আইনজীবী নিয়োগ করার সুযোগও দেওয়া হয়নি।
সাক্ষাৎকারে জয় তাঁর মায়ের নিরাপত্তা নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি জানান, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে আছেন এবং ভারত সরকার তাঁকে যথেষ্ট নিরাপত্তা দিচ্ছে। সেই কারণে অন্তত শারীরিকভাবে তিনি নিরাপদ আছেন বলেই মনে করেন জয়। তবু তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই মামলার মাধ্যমে তাঁর মাকে চরম শাস্তির দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
রায়ের পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতি কোন দিকে যেতে পারে, তা নিয়েও মত প্রকাশ করেন জয়। তিনি বলেন, যদি দেশে সংবিধানসম্মত পথ মেনে অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাচন-প্রক্রিয়া শুরু না হয়, তবে তাঁরা আদালতে কোনও আপিল করবেন না। তাঁর বক্তব্য, গণতান্ত্রিক কাঠামোকে এড়িয়ে যাওয়া হলে রাজনৈতিক সংকট আরও বাড়বে। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করেন, আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের কার্যক্রম চালাতে বাধা দেওয়া হলে দেশে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। হাসিনা পুত্র জয় আশা করছেন যে বাংলাদেশে যেদিন গনতন্ত্র ফিরবে সেদিনই তাঁর মা দেশে ফিরতে পারবেন এবং এই সবের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবেন। এবং তিনি আস্থা রাখছেন বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি কোনোভাবেই তাঁর মায়ের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।
সাজিদ আরও জানান, “সেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এই রায় সাধারণ মানুষ কোনো দিনই চায়নি। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এ কথা জানত তাই সারা দেশে কার্ফু জারি করেছিল, যাতে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে না পারে”। তাঁর কথায় অনির্বাচিত সরকার দেশের মানুষের কথা বলতে পারে না। তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছন। তাঁর কথায়, “বাংলাদেশ এক মুসলিম শাসিত ব্যর্থ দেশে পরিনত হবে”। বাংলাদেশ ইরান, ইরাক হওয়ার পথে এগোচ্ছে বলে দাবি করেন জয়।
