ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই নতুন করে উত্তাপ ছড়াল জাতীয় ঐক্য সরকার গঠন প্রসঙ্গ। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনও ধরনের জাতীয় বা সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাবে তিনি রাজি নন। দলের নিজস্ব শক্তি ও জনসমর্থনের ওপর ভরসা রেখেই নির্বাচনে অংশ নিয়ে এককভাবে সরকার গঠনের লক্ষ্যে এগোচ্ছে বিএনপি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বৈঠক ও আলোচনায় জামায়াতের পক্ষ থেকে বৃহত্তর বিরোধী ঐক্যের স্বার্থে একটি জাতীয় সরকার বা সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তারেক রহমান জানান, জনগণের ভোটে স্পষ্ট ম্যান্ডেট নিয়েই সরকার গঠন করতে চায় তার দল। রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন মতাদর্শের দলগুলিকে নিয়ে ক্ষমতা ভাগাভাগির সরকার করলে কার্যকর বিরোধী রাজনীতি দুর্বল হয়ে পড়বে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।
তারেক রহমানের দাবি, বিএনপি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যে জনসমর্থন পাচ্ছে, তাতে তারা একাই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে সক্ষম হবে। তাই আপসের রাজনীতির বদলে সরাসরি নির্বাচনী লড়াইয়ে বিশ্বাসী তারা। জনগণের কাছে নিজেদের উন্নয়ন পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক নীতি এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেই ভোট চাইবে দল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি ও জামায়াতের অতীত রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দলের মধ্যে দূরত্ব বেড়েছে। আগামী নির্বাচনে উভয় দলই নিজেদের আলাদা অবস্থান তুলে ধরতে চাইছে। তারেক রহমানের এই অবস্থান সেই দূরত্বকেই আরও স্পষ্ট করে দিল বলে মনে করা হচ্ছে। এতে নির্বাচনের আগে বিরোধী শিবিরে সম্ভাব্য জোট রাজনীতির সমীকরণ বদলে যেতে পারে।
এদিকে নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে জোট, সমঝোতা ও কৌশলগত অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বিএনপির তরফে পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয়েছে ঐক্য সরকারের পথে না গিয়ে একক শক্তিতেই ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্যেই তাদের লড়াই চলবে। ফলে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
