ওঙ্কার ডেস্ক : জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার সহ-প্রতিষ্ঠাতা আমির হামজাকে লক্ষ্য করে গুলি চালাল অজ্ঞাত পরিচয়ের আততায়ীরা। পাকিস্তানের লাহোরে একটি নিউজ চ্যানেলের অফিসের বাইরে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায় আততায়ীরা। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।
সন্ত্রাসী হাফিজ সাঈদের সঙ্গে মিলে আমির হামজা লস্কর-ই-তৈবা প্রতিষ্ঠা করেছিল। ভারতে একাধিক হামলা-সহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তার যোগ রয়েছে। বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার জ্বালাময়ী ভাষণ দিতে দেখা গিয়েছে। এ ছাড়া জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সমর্থনে লেখালিখি করত। লস্কর-ই-তৈবার প্রকাশনার সম্পাদক ছিল এই জঙ্গি। আমির হামজা ২০০২ সালে ‘কাফিলা দাওয়াত আওর শাহাদাত’-সহ বেশ কয়েকটি বই লিখেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট লস্কর-ই-তৈবাকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে আগেই। ট্রাম্প প্রশাসন আমির হামজাকে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত জঙ্গি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। মনে করা হয়, এই জঙ্গি লস্কর-ই-তৈবার কেন্দ্রীয় কমিটিতে কাজ করার পাশাপাশি সংগঠনের জন্য তহবিল সংগ্রহ, সদস্য সংগ্রহ এবং ধরা পড়া জঙ্গিদের মুক্তির জন্য আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।
২০১৮ সালে, পাকিস্তান সরকার লস্কর-ই-তৈবার ঘনিষ্ঠ দাতব্য সংস্থা জামাত-উদ-দাওয়া এবং ফালাহ-ই-ইনসানিয়াত ফাউন্ডেশনে অভিযান চালায়। সেই আর্থিক অভিযানের পর হামজা লস্কর থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেয়। এরপর জইশ-ই-মানকাফা নামে একটি পৃথক জঙ্গি গোষ্ঠী তৈরি করে। যার উদ্দেশ্য ছিল জম্মুকাশ্মীর-সহ বিভিন্ন জায়গায় জঙ্গি কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়া। সূত্রের খবর, এই জঙ্গি গোষ্ঠীটি পাকিস্তানে অবাধে নিজেদের কাজ চালাচ্ছে। শুধু তাই নয়, হামজা লস্কর-ই-তৈবার নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখত।