ওঙ্কার ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেও ইরানের উপর ভরসা একেবারেই নেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মাঝে ইরানের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা জানিয়েছে ট্রাম্প। পাশাপাশি সেদেশের নেতৃতেকে বদলানোর হুমকিও দেয়। এবার যুদ্ধ বিরতির সময়কালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন ইরানের আশেপাশে থেকেই ইরানের উপর নজর রাখবে মার্কিন সেনা। অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির জন্য ইরানের ১০টি শর্তের মধ্যে অন্যত্তম শর্ত ছিল মধ্যপ্রাচ্যে স্থিত মার্কিন ঘাঁটি প্রত্যাহর করতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই অবস্থান ফের পশ্চিম এশিয়ার সাময়িক শান্তিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন সেনা ওই অঞ্চলে মোতায়েনই থাকবে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তবে এই যুদ্ধবিরতি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয় বলেই মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই চুক্তি কার্যকর থাকলেও এটি অত্যন্ত ভঙ্গুর এবং যেকোনও সময় পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে পারে। সেই কারণেই মার্কিন সেনাকে সরিয়ে নেওয়ার কোনও সিদ্ধান্ত এখনই নেওয়া হচ্ছে না।
প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, একটি স্থায়ী এবং নির্ভরযোগ্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত সেনা উপস্থিতি বজায় রাখা হবে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদি ইরান চুক্তির শর্তাবলি মেনে না চলে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না। অন্যদিকে ইরানের প্রস্তাবিত ১০টি শর্তে আমেরিকা রাজি না হলে স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে যাবে না তেহরান তা বরাবর স্পষ্ট জানিয়ে এসেছে। যার মধ্যে ইজরায়েল শর্ত লঙ্ঘন করে লেবাননে আক্রমণ চালিয়েছে। ইরানের অপর এক শর্তে তেহরান জানায় পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি প্রত্যাহত করতে হবে। তাতেও রাজি নয় ওয়াশিংটন।
এদিকে, সাম্প্রতিক সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে গোটা অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর এবং তার আশপাশে মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ এই অঞ্চলটি বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই পরিস্থিতিতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সহজ হবে না বলেই মত রাজনৈতিক বিশেসজ্ঞদের। ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান থেকে স্পষ্ট যে, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না। ফলে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার আবহ অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।