ওঙ্কার ডেস্ক: লেবাননে চলতে থাকা সংঘর্ষের জেরে ক্রমশ গভীর হচ্ছে মানবিক সঙ্কট। ইজরায়েলের লাগাতার হামলা এবং বিভিন্ন এলাকা খালি করার নির্দেশের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ ঘরছাড়া হতে বাধ্য হচ্ছেন। রাষ্ট্রসংঘের সাম্প্রতিক রিপোর্টে উঠে এসেছে, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই প্রায় ৩ লক্ষ ৭০ হাজার শিশু নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপত্তার খোঁজে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
রাষ্ট্রসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রতিদিনই হাজার হাজার শিশু নতুন করে বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, অনেক পরিবার একাধিকবার স্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে শিশুদের মধ্যে ভয়, অনিশ্চয়তা এবং মানসিক আঘাত দ্রুত বাড়ছে। অনেকেই নিজেদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, আবার কেউ কেউ নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে খোলা আকাশের নীচে বা অস্থায়ী শিবিরে দিন কাটাচ্ছে। এই সংঘর্ষে শিশুদের মৃত্যুর সংখ্যাও উদ্বেগজনক। বহু শিশু প্রাণ হারিয়েছে এবং কয়েকশো শিশু গুরুতরভাবে আহত হয়েছে। হাসপাতাল ও চিকিৎসা পরিকাঠামোর উপর চাপ এতটাই বেড়েছে যে, অনেক ক্ষেত্রে আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সময়মতো দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এর পাশাপাশি পানীয় জল, খাবার এবং ওষুধের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
লেবাননে শিক্ষা ব্যবস্থাও কার্যত ভেঙে পড়েছে। বহু স্কুলকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, ফলে লক্ষাধিক পড়ুয়ার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন স্কুলের বাইরে থাকার কারণে শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে, অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলিতে ভিড় ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে।
দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় বহু এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এর ফলে ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুৎ, জল এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো মৌলিক পরিষেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রাষ্ট্রসংঘের তরফে সতর্ক করে বলা হয়েছে, অবিলম্বে সংঘর্ষ থামানো না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। বিশেষ করে শিশুদের উপর এই সঙ্কটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে, যা ভবিষ্যতে একটি প্রজন্মের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকেই বিপন্ন করে তুলতে পারে।