ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অশান্তি, ভাঙচুর ও রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন আদৌ অবাধ ও নিরাপদ হবে কি না, তা নিয়ে ক্রমেই প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা, রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এবং প্রশাসনিক পরিকাঠামোর উপর হামলার ঘটনার পর নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও।
ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকা সহ একাধিক জেলায়। এই বিক্ষোভের সময় সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তিতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং সংবাদমাধ্যমের অফিসে হামলার মতো ঘটনা সামনে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। এর ফলে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।
এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কমিশনের অন্দরে নির্বাচন কর্মীদের নিরাপত্তা, ভোটকেন্দ্রের সুরক্ষা এবং প্রার্থীদের নির্বিঘ্নে প্রচার চালানোর সুযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রচারে নামতে ভয় পাচ্ছেন তাঁরা। কোথাও কোথাও প্রার্থীরা হুমকিরও দাবি করেছেন, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অশনিসংকেত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যেও এই ইস্যুতে মতবিরোধ স্পষ্ট। শাসক ও বিরোধী শিবির একে অপরের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলছে। বিরোধী মহলের বক্তব্য, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ নিরপেক্ষ নয় এবং এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন হলে তা জনগণের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত করবে না।
সাধারণ মানুষের মধ্যেও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। একাংশের আশঙ্কা, অশান্তির আবহে ভোটগ্রহণ হলে ভোটার উপস্থিতি কমতে পারে এবং ভয়ভীতির পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার উপর জোর দিচ্ছেন এবং সকল রাজনৈতিক পক্ষকে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন। বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে যে প্রশ্নগুলি উঠছে, তা শুধু রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা এই তিনটি বিষয় ঘিরেই মূল উদ্বেগ আবর্তিত হচ্ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার উপরই নির্ভর করবে নির্বাচন আদৌ বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে কি না।
