ওঙ্কার ডেস্ক: বিগত বেশ কিছু দিন যাবৎ ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও বেশি তিক্ত হয়ে উঠেছে। দুই দেশের মধ্যে যেকোনো সময় যুদ্ধ লাগার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই মুহুর্তে দাঁড়িয়ে ইরানে থাকা মার্কিন নাগরিকদের অতি সত্ত্বর দেশ ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান এবং আমেরিকার সম্পর্ক সুষ্ট না হওয়ায় সেদেশে কোনও মার্কিন দুতাবাস নেই। সেই কারণে সুইৎজারল্যান্ডের মাধ্যমে ইরানে বসবাসকারী আমেরিকানদের এই বার্তা দিয়েছে ওয়াশিংটন।
ইরানের সঙ্গে কোনো দিনই ইতিবাচক সম্পর্কে ছিল না আমেরিকার। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমশ উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ইরানে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের জন্য এই জরুরি সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানে থাকা আমেরিকানদের যত দ্রুত সম্ভব দেশ ছেড়ে বেরিয়ে আসা উচিত। নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনিশ্চিত ও অস্থির হয়ে উঠছে আর তার প্রভাব ইরানে থাকা মার্কিন নাগরিকদের উপর পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে সরকার নাগরিকদের নিজস্ব ব্যবস্থায় ইরান ত্যাগের পরিকল্পনা করতে বলেছে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ইরানের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিক্ষোভ এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে যে কোনও সময় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ করে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়া, নিরাপত্তা তল্লাশি বাড়ানো, গণপরিবহনে বিঘ্ন এবং ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধতার মতো সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ফলে বিদেশি নাগরিকদের চলাচল ও যোগাযোগ কঠিন হয়ে উঠছে।
পাশাপাশি ইরান জলসীমান্তে মার্কিন সেনা মোতায়েনকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল খামেনেই সরকার। ইরান প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছিল যে যদি তাঁদের দেশের সর্বোচ্চ নেতার উপর হামলা দেশের স্বার্থের উপর হামলা হিসাবে দেখবে তেহরান। অন্যদিকে একাধিক বার চাপ সৃষ্টি করে ইরানকেও হুঁশিয়ারি দিয়ে চলেছে যুক্তরাষ্ট্রও। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকান নাগরিকদের লক্ষ্য করতে পারে বলে আশঙ্কা করে এই বিবৃতি জারি করেছে মার্কিন মুলুক।
গত বছর ডিসেম্বর মাস থেকে ইরানের অভ্যন্তরীন অশান্তির জেরে বাণিজ্যিক উড়ান পরিষেবাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ফ্লাইট বাতিল বা সময়সূচি পরিবর্তনের খবর মিলছে। এই পরিস্থিতিতে শেষ মুহূর্তে সরকারি সহায়তা পাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন প্রশাসন। তাই আগে থেকেই বিকল্প রুট ও নিরাপদ পথ খুঁজে বের করে দ্রুত দেশত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে আমেরিকান নাগরিকদের। প্রয়োজনে স্থলপথে প্রতিবেশী দেশে যাওয়ার কথাও বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
যাঁরা তৎক্ষণাৎ বেরোতে পারবেন না, তাঁদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করা, প্রয়োজনীয় খাদ্য, পানীয় জল, ওষুধ ও জরুরি সামগ্রী মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনসমাবেশ, বিক্ষোভ বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে, যাতে অপ্রত্যাশিত বিপদের মুখে পড়তে না হয়।
এই ধরনের কড়া সতর্কবার্তা সাধারণত তখনই জারি করা হয় যখন কোনও দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটার আশঙ্কা থাকে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা মিলিয়ে পরিস্থিতি যে সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে, এই পদক্ষেপ তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে ইরানে থাকা মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে এবং অনেকে ইতিমধ্যেই দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন।
