ওঙ্কার ডেস্ক : আমেরিকা ছাড়ছেন নোবেল জয়ী দম্পতি অভিজিৎ-ডাফলো। মার্কিন প্রশাসন ও সে দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে গবেষণার অর্থ বরাদ্দ নিয়ে সংঘাতের মধ্যেই আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ছাড়ছেন এই নোবেলজয়ী দম্পতি। সামনের বছর তাঁরা যোগ দিচ্ছেন সুইজারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব জুরিখে। জানা গেছে, সেখানে তাঁরা গড়ে তুলতে চাইছেন একটি নতুন ‘সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট ইকনমিকস’।
ইতিমধ্যে জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে যে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে কর্মরত নোবেলজয়ী দম্পতি আগামী বছরের জুলাই থেকে তাদের অর্থনীতি বিভাগে যোগ দেবেন।
প্রসঙ্গত, ব্রাজিলের লেমান ফাউন্ডেশনের অনুদানে তৈরি হয়েছে নতুন কেন্দ্র, ‘লেমান সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট, এডুকেশন অ্যান্ড পাবলিক পলিসি’। এই প্রতিষ্ঠানটির জন্য খরচ হয়েছে ২৬ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ৩২ মিলিয়ন ডলার)।
কেন এই দম্পতি আমেরিকা ছাড়ছেন তা অবশ্য জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি। তবে তাঁরা এমন এক সময়ে সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন যখন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গবেষণা ক্ষেত্রে অনুদান কমানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাগত স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপের ফলে আমেরিকা ছাড়ছেন বিজ্ঞানীরা।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ফ্লোরিয়ান শয়ের এক্সে লিখেছেন, “নোবেলজয়ী অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও এস্থার ডাফলো আমাদের দলে যোগ দিচ্ছেন, এটা জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এক ঐতিহাসিক ঘটনা। তাঁদের আগমন আমাদের গবেষণার মান ও আন্তর্জাতিক মর্যাদাকে আরও বাড়াবে।” বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট মাইকেল শেপম্যানও জানিয়েছেন,, “দু’জনেই বৈজ্ঞানিক তত্ত্বকে সমাজের কল্যাণের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। আমাদের জন্য এটি এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।”
প্রত্যুত্তরে ডাফলো বলেছেন, “নতুন কেন্দ্র আমাদের আগের কাজকে আরও বিস্তৃত করবে। যেখানে গবেষণা, ছাত্রছাত্রীদের পরামর্শ এবং নীতি নির্ধারণের বাস্তব প্রয়োগ মিলবে একসঙ্গে।” উত্তর দিয়েছেন অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ওও। তিনি জানিয়েছেন, “জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের গবেষণা ও নীতি-নির্ভর কাজের জন্য আদর্শ পরিবেশ দেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
এদিকে, এমআইটি সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক গবেষণা তহবিল নীতির বিরোধিতা করেছে। প্রেসিডেন্ট স্যালি কর্নব্লুথ মার্কিন শিক্ষাসচিব লিন্ডা ম্যাকমোহনকে লেখা চিঠিতে জানিয়েছেন, “আমরা এমন কোনও নীতি মানতে পারি না যা গবেষণার স্বাধীনতা ও বৈজ্ঞানিক মেধার মূল্যায়নকে রাজনীতির সঙ্গে বেঁধে দেয়।”
ট্রাম্প প্রশাসনের পাঠানো নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছে, যেসব বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি ১৫ শতাংশের বেশি রাখবে, বা ভর্তি ও নিয়োগে জাতি বা লিঙ্গ বিবেচনা করবে, তাদের তহবিল বন্ধ করে দেওয়া হবে।ব্রাউন, ভার্জিনিয়া, ডার্টমাউথ ও ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ও এই নীতিকে ভালো চোখে দেখছে না। গবেষণা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্তে আমেরিকা ছাড়ছেন অভিজিৎ ও দুফলো। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মার্কিন প্রশাসনের বর্তমান ভিসা নীতি, সোশ্যাল মিডিয়া যাচাই, এবং ১৯টি দেশের উপর আরোপিত ট্রাভেল ব্যানের জন্য সে দেশের উচ্চশিক্ষার পরিবেশ ক্রমেই সংঘাতপূর্ণ হয়ে উঠছে।
