ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক বিমান হামলায় ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আহভাজ শহরের একটি শিশু ক্যানসার হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার জেরে ভবনের শিশুদের কেমোথেরাপি বিভাগের একটি অংশে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে হাসপাতালের জানালার কাচ ভেঙে যায়, বিভিন্ন ওয়ার্ডে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে চিকিৎসাধীন শিশুদের দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। হতাহতের কোন খবর সামনে আসেনি এখনও পর্যন্ত কিন্তু এই হামলা ফের মনে করে দিচ্ছে মিনাবে শিশুদের উপর আমেরিকার হামলার কথা।
ইরানের স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকদের দাবি, হাসপাতালটি একটি বেসামরিক চিকিৎসাকেন্দ্র এবং সেখানে ক্যানসারে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা চলছিল। হামলার সময় রোগী, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্রুত রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক অবকাঠামো ও ক্ষেপণাস্ত্র-সংক্রান্ত স্থাপনা। তবে ইরানের অভিযোগ, সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি একাধিক বেসামরিক স্থাপনাও এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে শিশু ক্যানসার হাসপাতাল অন্যতম। একই সময়ে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরও হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতেই ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে। ক্রমশ তীব্র হয়ে ওঠা এই সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ বেসামরিক হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে এবং যুদ্ধের মধ্যেও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছে।