ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার ডুবালিয়া পাড়া এলাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক ভয়াবহ গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার গভীর রাতে এক হিন্দু যুবককে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করার পর গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে তার দেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়ায়।
নিহত যুবকের নাম দীপু চন্দ্র দাস। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইসলাম ধর্ম ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে কটূক্তি করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ওই অভিযোগ ছড়িয়ে পড়তেই এলাকার একাংশের মানুষ উত্তেজিত হয়ে পড়ে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার পরিবর্তে একসময় পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, দীপু চন্দ্র দাসকে প্রথমে আটক করে মারধর করা হয়। পরে তাকে একটি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এরপর উত্তেজিত জনতা তার দেহে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাতের অন্ধকারে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দগ্ধ অবস্থায় নিহত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনার পর যাতে নতুন করে কোনও অশান্তি না ছড়ায়, সে জন্য এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো মামলা দায়েরের খবর পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা এবং ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বিচারবহির্ভূত সহিংসতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এমন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, এই ধরনের সহিংসতা সমাজে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে এবং আইনের শাসনের প্রতি গভীর প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
