ওঙ্কার ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি খোলা অধিবেশনে পাকিস্তানের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাল ভারত। শান্তি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনায় পাকিস্তান আবারও জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপন করায় ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পার্বথানেনি কড়া ভাষায় সেই দাবি খারিজ করে দেন। ভারতের তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এবং এই বিষয় নিয়ে তৃতীয় পক্ষের মন্তব্য বা হস্তক্ষেপের কোনও স্থান নেই।
ভারতের বক্তব্যে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও উঠে আসে। হরিশ পার্বথানেনি বলে, “যে দেশ নিজেই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সংকটে ভুগছে, তারা অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে কথা বলার নৈতিক অধিকার হারিয়েছে”। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এখনও কারাবন্দি, যা সে দেশের গণতন্ত্রের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে”। একই সঙ্গে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সাংবিধানিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলা হয়, সেই সংশোধনীর মাধ্যমে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে কার্যত আজীবন আইনি সুরক্ষা বা দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোর পরিপন্থী।
ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে সামরিক নেতৃত্বের ক্ষমতা আরও বাড়ানো হয়েছে এবং অসামরিক শাসনব্যবস্থা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান শান্তি, গণতন্ত্র বা মানবাধিকারের কথা বললে তা বিশ্বাসযোগ্যতা হারায় বলে মন্তব্য করা হয়। ভারত আরও অভিযোগ করে যে, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মঞ্চকে ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে আসছে এবং সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার বিষয় থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা করছে।
নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের প্রতিনিধি স্পষ্ট ভাষায় জানান, পাকিস্তানের এই ‘ভারত-কেন্দ্রিক আসক্তি’ কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি সৃষ্টি করছে। শান্তি ও সহযোগিতার পথে এগোনোর পরিবর্তে পাকিস্তান বারবার পুরনো অভিযোগ ও বিতর্কিত বিষয় সামনে আনছে বলে অভিযোগ করা হয়।
সবশেষে ভারতের পক্ষ থেকে হরিশ পার্বথানেনি বলেন,” যে দেশ নিজের দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে সামরিক শক্তিকে আইনের ঊর্ধ্বে তুলে দিচ্ছে, তারা আন্তর্জাতিক মঞ্চে নীতিকথা শোনাতে পারে না”। ভারত পুনরায় জোর দিয়ে জানায়, জাতিসংঘের মঞ্চে পাকিস্তানের এই ধরনের বক্তব্যের কোনও ভিত্তি নেই এবং ভারত তার সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় অটল থাকবে।
