ওঙ্কার ডেস্ক : ইরান-আমেরিকা সম্ভাব্য কূটনৈতিক আলোচনাকে ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। ইসলামাবাদে প্রস্তাবিত বৈঠক নিয়ে যখন আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা কোনও আলোচনায় বসতে রাজি নয়। বিশেষ করে লেবাননে ইজরায়েলের সামরিক হামলা অব্যাহত থাকায় তেহরানের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লেবাননে হামলা চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না। শুধু তাই নয়, ইসলামাবাদে প্রতিনিধি পাঠানোর খবরও তারা খারিজ করে দিয়েছে। এই ঘোষণার ফলে সম্ভাব্য বৈঠক কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। তবে সেই যুদ্ধবিরতির আওতায় কোন কোন অঞ্চল পড়বে, তা নিয়ে শুরু থেকেই মতভেদ ছিল। লেবাননকে ঘিরে এই বিভ্রান্তি পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। এই অবস্থার মধ্যেই ইজরায়েলের ধারাবাহিক হামলা নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
লেবাননে সামরিক অভিযানে বহু সাধারণ মানুষের প্রাণহানি এবং ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে এসেছে। এই ঘটনায় ইরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং স্পষ্ট করেছে, এই পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা অর্থহীন। তাদের মতে, একদিকে যুদ্ধবিরতির কথা বলা হলেও অন্যদিকে হামলা চলতে থাকলে কোনও আলোচনাই কার্যকর হতে পারে না।
অন্যদিকে ইজরায়েল জানিয়েছে, তাদের সামরিক অভিযান নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে কেন্দ্র করেই চলছে এবং লেবাননের ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি প্রযোজ্য নয় বলে তারা মনে করে। এই অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং সংঘাতের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আলোচনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে আশার সঞ্চার হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই অনিশ্চিত। লেবাননকে ঘিরে সংঘাত এবং পরস্পরের অবস্থানগত কড়াকড়ির কারণে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আপাতত স্থগিত হয়ে পড়েছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।