ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে কূটনৈতিক জল্পনা উসকে দিয়েছে। চিন সফর শেষে দেশে ফেরার পথে প্রেসিডেন্টের বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে ট্রাম্প জানান, পাকিস্তানের বিশেষ অনুরোধেই আমেরিকা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। ট্রাম্প আরও জানান, যদিও ব্যক্তিগতভাবে তিনি আরও কঠোর সামরিক অবস্থানের পক্ষপাতী ছিলেন।
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং সামরিক নেতৃত্ব সরাসরি হস্তক্ষেপ করে ওয়াশিংটনের কাছে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর অনুরোধ জানায়। দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্য ও বৃহত্তর আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার কথা মাথায় রেখেই মার্কিন প্রশাসন সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেয়। এর ফলে ইসলামাবাদ কার্যত আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
ইরানের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই সংঘাতপূর্ণ। পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ এবং পশ্চিম এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বহুবার চরমে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা যে অত্যন্ত সংবেদনশীল, সে কথাও ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি প্রতিকূল হলে আমেরিকা আবারও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না। অন্যদিকে, ইরানের তরফে আমেরিকার উপর অবিশ্বাসের সুর বজায় রয়েছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শুধুমাত্র বাস্তবসম্মত, সম্মানজনক ও দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধানের পথেই স্থায়ী শান্তি সম্ভব। ফলে আপাতত সংঘাত কিছুটা স্তিমিত হলেও কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। এই ঘটনাপ্রবাহ বিশ্ব রাজনীতিতে পাকিস্তানের কূটনৈতিক গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।