স্পোর্টস রিপোর্টার, ওঙ্কার বাংলা: রবিবার বাঙালির বড়ো ম্যাচ কলকাতা ডার্বি। যুবভারতীতে মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গল ম্যাচ একটা ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষনে দাঁড়িয়ে। ইস্টবেঙ্গল যেমন ড্র করলেই আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হবে তেমনই মোহনবাগানকে চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে জিততেই হবে। প্রথমবার আইএসএল ট্রফির স্বপ্ন যেমন লাল হলুদে তেমনই মোহনবাগানে আছে চিরপ্রতিপক্ষর থেকে ট্রফি ছিনিয়ে নেওয়ার জেদ।
অস্কার এবারে ট্রফি দিতে পারলে তার বিদায়টা স্মরণীয় হবে ইস্টবেঙ্গল ইতিহাসে। যদিও অস্কার বললেন, ‘সৌভিক, মহেশ, সল খেলতে পারবে না। যারা খেলবে না তাদের বিকল্প ভাবতে হবে। ফ্রেস টিম নিয়ে নামব। এটা আমার কাছে স্পেশাল ম্যাচ। আমি ইস্টবেঙ্গল ফ্যান দের ভালোবাসি, আমি জানি সমর্থকদের যন্ত্রনা কতটা শেষ বার ২০১৮-১৯ সালে রানার্স হয়েছিল। এবার আমরা ট্রফি জিততে চাই। ইস্টবেঙ্গল একটা আবেগ নিয়ে চলে ইমামির ভাবনা আলাদা আমার ভাবনা আলাদা তাই এটা নিয়ে কথা না বলা ভালো। আগামী কালের ম্যাচ নিয়ে আমি শুধু ভাবছি। এটা ঠিক, আমি দেড় বছর আগে দায়িত্ব নিয়েছিলাম। বছরে অনেক বদল হয়েছে । আমাদের মানসিকতাতে বদল এসেছে।আমি এই ক্লাবকে খুব ভালোবাসী, ক্লাবের ভবিষ্যত খুব উজ্জ্বল।’
ডার্বির দিনেই দায়িত্ব নিয়েছিলাল। সেই থেকে মোহনবাগান ক্লাবে কোনও বদল হয়নি। তার চ্যাম্পিয়ন হয় জাতীয় দলের অনেক প্লেয়ার আছে। আমাদের দলে একমাত্র বিপিন। আমাদের পারফরম্যান্স আমাদের শক্তি, আমরা কাল তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়বো। এটাই পার্থক্য। আমরা শুধু ট্রফি নিয়ে ভাবছি। একই সঙ্গে আগামী বছর এএফসি খেলা, আগে লক্ষ্য ছিল সেরা ছয় এ শেষ করা এবার আমরা সেরা হওয়া নিয়ে ভাবছি। মোহনবাগান ক্লাবের চাপ নেই ওরা খেতাব ধরে রাখার লড়াইয়ে নামছে আমরা জিততে। ‘এদিকে দল ভালো ফর্ম এর মধ্যে না থাকলেও বিচলিত নন বাগান কোচ লোবেরা। তিনি বললেন, এটা আমাদের কাছে ফাইনাল ম্যাচ। তিন পয়েন্ট পেতে হবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য। দু দলের স্কোয়াড খুব ভালো, ভালো প্লেয়ার আছে। আমি আবার বলছি এই ম্যাচ আমাদের কাছে ফাইনাল।’
স্ট্রাইকারদের গোল করতে না পারা নিয়ে বলেন, আমি মানছি শেষ কয়েকটি ম্যাচে গোল সেভাবে আসেনি সুযোগ কাজে লাগানো যায়নি। অতীত নিয়ে ভাবছি না। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলছি। আশা করি জেমি কাল থাকবে কিনা সেটা কাল বলতে পারব। আমি মনে করি ইস্টবেঙ্গল সেরা স্কোয়াড এবারের লিগে। তারা সেরা জায়গায় আছে। ফাইনাল ম্যাচে তারা আমাদের জন্য শক্ত প্রতিপক্ষ। আমরা অতীত নিয়ে ভাবছি না। আমাদের জন্য দারুন সুযোগ। প্রতিপক্ষ এর থেকে আমরা ভালো খেলে জয় পেতে হবে। আমাদের কাল জিতেই চ্যাম্পিয়নশিপ নিশ্চিত করতে হবে। অমাদের সেরাটা দিতে হবে আমাদের সমর্থকদের জন্য। ‘এদিকে ডার্বিতে বাসের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি মেট্রো ও ফেরি পরিষেবার সময় ও বাড়ানো হতে চলেছে বলেই জানা গিয়েছে।একইসঙ্গে নতুন সরকারের আমলে ডার্বিতে বদলে গেলো যুবভারতীর মুখসজ্জাও। সরিয়ে ফেলা হল বহু পরিচিত ‘বিশ্ববাংলা’ লোগো, তার জায়গায় বসল জাতীয় প্রতীক অশোকস্তম্ভ। সূত্রের খবর, স্টেডিয়ামের সামনে থাকা বিশালাকায় স্ট্যাচুও বদলে যাবে বলে শোনা যাচ্ছে। অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপের সময়ে তৈরি হয়েছিল তা। একসময় তৃণমূল সরকারের অন্যতম পরিচিত প্রতীক হয়ে উঠেছিল এই ‘বিশ্ববাংলা’ ব্র্যান্ড লোগো। সর্বত্রই চোখে পড়ত বিশেষ ‘ব’ অক্ষরের প্রতীক। লোগোর উপরে ছোট করে থাকত অশোকস্তম্ভও।
বিজেপি সরকার গঠনের পর ধীরে ধীরে সরকারি দপ্তর ও বিভিন্ন জায়গা থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে ‘বিশ্ববাংলা’র লোগো। স্কুলের ইউনিফর্মে, সরকারি ওয়েবসাইটে এখন অশোকস্তম্ভেরই ব্যবহার। এবার সেই তালিকায় যোগ হল বাঙালির বড় আপন, বড় প্রিয় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনও। তাও আবার বাঙালির আবেগের বড় ম্যাচের আগে।’