ওঙ্কার ডেস্ক: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতিতে কড়া অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর ঘোষিত নতুন নীতির আওতায়, যে সব দেশ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেন চালিয়ে যাবে, তাদের উপর আমেরিকার সঙ্গে ব্যবসার ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। এই ঘোষণার পরেই প্রশ্ন উঠেছে, এর প্রভাব কি ভারতের উপর পড়বে।
বর্তমানে ভারতের সঙ্গে ইরানের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ খুব বেশি নয়। সাম্প্রতিক সরকারি হিসেব অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলারের আশপাশে ঘোরাফেরা করছে। ভারতের তরফে মূলত বাসমতি চাল, চা, চিনি, ওষুধ এবং কিছু যন্ত্রাংশ ইরানে রপ্তানি করা হয়। অন্যদিকে ইরান থেকে ভারতে আসে মূলত শুকনো ফল, রাসায়নিক দ্রব্য এবং কিছু শিল্পপণ্য। এই বাণিজ্যের বড় অংশই মানবিক প্রয়োজনের আওতায় পড়ে, যা আগের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তুলনামূলকভাবে অনুমোদিত ছিল।
ভারত সরকারের বিভিন্ন সূত্র এবং বাণিজ্য সংগঠনগুলির মতে, ট্রাম্পের এই প্রস্তাবিত শুল্কনীতি ভারতের জন্য বড়সড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াবে না। কারণ, একদিকে যেমন ইরানের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য পরিমাণ সীমিত, অন্যদিকে ভারতীয় সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মেনে সতর্কভাবে লেনদেন করে আসছে। ফলে হঠাৎ করে আমেরিকার বাজারে ভারতের সামগ্রিক রপ্তানিতে বড় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে পুরোপুরি উদ্বেগমুক্ত নন ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা। বিশেষ করে বাসমতি চাল রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে ইরানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন ও পেমেন্ট প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। ইতিমধ্যেই কিছু ক্ষেত্রে পেমেন্ট পেতে দেরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ট্রাম্পের ঘোষণার পর সেই অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শুল্কনীতি আসলে ইরানের উপর চাপ বাড়ানোর বৃহত্তর মার্কিন কৌশলেরই অংশ। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষিতে আমেরিকা নতুন করে কঠোর অবস্থান নিতে চাইছে। সেই চাপের পরোক্ষ প্রভাব ভারতের মতো দেশগুলির উপর কতটা পড়বে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনের বাস্তব পদক্ষেপ এবং নয়াদিল্লির কূটনৈতিক অবস্থানের উপর। আপাতত ভারতের অর্থনীতির উপর এই ঘোষণার তাৎক্ষণিক কোনও বড় ধাক্কার আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে না। তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতির এই নতুন সমীকরণে ভারতীয় রপ্তানিকারক ও নীতিনির্ধারকদের সতর্ক নজর রাখতেই হচ্ছে।
