ওঙ্কার ডেস্ক: বিগত ডিসেম্বর থেকে উতপ্ত মধ্য প্রাচ্য। ইরানের শাসক দলের উপর ক্ষুব্ধ হইয়ে আন্দোলনের ডাক দেয় দেশের সাধারণ মানুষ। এই বিক্ষোভকে প্রকাশ্যে সমর্থন করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আর এতেই বিক্ষোভের মাত্রা আরও বেরে যায় সেদেশে। এর মাঝেই ইরানের প্রেসিডেন্ট ইরানের সব শত্রু দের বলেন দেশের সর্বোচ্চ নেতার উপর কোনো রকম আক্রমণ সহ্য করবে না তেহরান। তার পালটা জবাব দিয়ে ইজরায়িলের প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন নেতিনয়াহু জানিয়েছেন, ইরান যদি কোন ভাবে ইজরায়িলকে আঘাত করে তাহলে তার পরিণাম এমন হবে যা তারা কোনোদিন ভাবতেও পারেনি।
সম্প্রতি এক বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের প্রতিটি পদক্ষেপ ইজরায়েল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়ানোর যে কোনও চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে ইজরায়েল সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং প্রয়োজনে চরম পদক্ষেপ নিতেও পিছপা হবে না। তিনি আরও বলেন, ইজরায়েলের নিরাপত্তা প্রশ্নে কোনও ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না এবং দেশের অস্তিত্ব রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করতে দ্বিধা করবে না।
এই হুঁশিয়ারির পেছনে রয়েছে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি। গাজা যুদ্ধের পর থেকে গোটা অঞ্চলে উত্তেজনা তুঙ্গে। ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইজরায়েল। পাশাপাশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং সামরিক সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তেল আভিভ। নেতানিয়াহু একাধিকবার বলেছেন, ইরানকে কখনওই এমন অবস্থানে পৌঁছতে দেওয়া হবে না, যেখানে তারা ইজরায়েলের জন্য সরাসরি অস্তিত্বের হুমকি হয়ে উঠতে পারে। নেতানিয়াহুর বক্তব্যে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির প্রসঙ্গও উঠে আসে। ইরানের সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ ও অসন্তোষের কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, সে দেশের মানুষ শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছে। ইজরায়েল সরকার ইরানের জনগণের পাশে রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি, যদিও একই সঙ্গে ইরানি নেতৃত্বকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন।
এই হুঁশিয়ারির পর আন্তর্জাতিক মহলেও নজর পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ ইজরায়েলের মিত্র দেশগুলি পরিস্থিতির দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে নেতানিয়াহুর বক্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে, ইজরায়েল কোনও হুমকিকে হালকাভাবে নেবে না এবং প্রয়োজনে নজিরবিহীন শক্তি প্রয়োগ করতেও প্রস্তুত।
