ওঙ্কার ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-এর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পর দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যম বিশ্বের উদ্দেশে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন ও সংবাদ সংস্থাগুলির সম্প্রচারে প্রথমেই জানানো হয়, এটি শুধু একটি জাতীয় শোকের মুহূর্ত নয়, বরং ইসলামী প্রজাতন্ত্রের আদর্শ রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার সময়। খামেনেইকে “বিপ্লবের অভিভাবক” ও “প্রতিরোধের প্রতীক” হিসেবে তুলে ধরে তাঁর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বের প্রশংসা করা হয়।
সরকারি সম্প্রচারে দাবি করা হয়, দেশের শাসনব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্থিতিশীল রয়েছে এবং সংবিধান অনুযায়ী উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। বিশ্ববাসীকে উদ্দেশ করে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নেতৃত্বের পরিবর্তন সত্ত্বেও দেশের নীতিগত অবস্থানে কোনও দুর্বলতা আসবে না। বিশেষ করে পররাষ্ট্রনীতি ও আঞ্চলিক কৌশলগত অবস্থান আগের মতোই অব্যাহত থাকবে বলে বার্তা দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরও জানায়, দেশের সংবিধান অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করা হবে। এই দায়িত্ব পালন করবে বিশেষজ্ঞদের একটি দল। তাঁদের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং কোনও ধরনের ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হবে না বলেও জোর দিয়ে বলা হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়ার প্রসঙ্গ তুলে ইরানের প্রেস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মহলের উচিত ইরানের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াকে সম্মান করা। পাশাপাশি সতর্ক করে বলা হয়েছে, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী ও বিশেষ করে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। শোকের মুহূর্তকে কেন্দ্র করে কোনও রকম অস্থিরতা বা বাইরের হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না বলেও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
সরকারি বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরান তার বিপ্লবী আদর্শ ও আঞ্চলিক কৌশল থেকে সরে আসবে না। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশটি নিজেদের অবস্থান “অটুট ও দৃঢ়” বলেই দাবি করেছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বারবার দেখিয়েছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষ শোক মিছিলে অংশ নিচ্ছেন এবং নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করছেন যার মাধ্যমে বিশ্বকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে, ইরান ঐক্যবদ্ধ এবং স্থিতিশীল।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়লেও ইরানের প্রেস স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে নেতৃত্ব বদলালেও রাষ্ট্রের নীতি, সামরিক কৌশল ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশ একই থাকবে, এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র তার পথ থেকে বিচ্যুত হবে না।
