ওঙ্কার ডেস্ক: ইরানে সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে ফের তীব্র হয়ে উঠেছে গণবিক্ষোভ। রাজধানী তেহরান-সহ দেশের একাধিক শহরে রাস্তায় নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ। স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছে রাজপথ। শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব এবং নাগরিক স্বাধীনতার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ এই আন্দোলনের মূল প্রেক্ষাপট।
এই আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইরানের প্রাক্তন শাহের পুত্র, নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির আহ্বান। বিদেশে বসে তিনি নির্দিষ্ট সময় ধরে রাস্তায় নামার ডাক দেন এবং দাবি করেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটাতে জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনই একমাত্র পথ। তাঁর এই বার্তা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু মানুষ সেই ডাকে সাড়া দিয়ে বিক্ষোভে যোগ দেন বলে জানা যাচ্ছে। যদিও আন্দোলনটি মূলত স্বতঃস্ফূর্ত ও নেতৃত্বহীন, তবু পাহলভির বক্তব্য অনেক প্রতিবাদীকে উৎসাহ জুগিয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরানি প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। একাধিক এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা এবং আন্তর্জাতিক ফোন সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সমন্বয় এবং বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যাহত হয়। নিরাপত্তা বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে। বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের খবর মিলেছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে বহু মানুষকে, আহত ও নিহতের সংখ্যাও বাড়ছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সরকারের কণ্ঠরোধের নীতিই এই ক্ষোভকে আরও উসকে দিচ্ছে। তাঁদের দাবি, শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সংস্কার নয়, রাজনৈতিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনই এই সংকটের সমাধান। অন্যদিকে সরকার এই আন্দোলনকে বিদেশি ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
এই অস্থিরতার প্রভাব আন্তর্জাতিক মহলেও পড়তে শুরু করেছে। পশ্চিমি দেশগুলি পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর ইঙ্গিত মিলছে। ইরানে চলমান এই বিক্ষোভ শুধু একটি সাময়িক প্রতিবাদ নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এক গভীর অনিশ্চয়তার ছবি তুলে ধরছে।
