ওঙ্কার ডেস্ক: ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলি ধ্বংস করার দাবিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন করে বিতর্কের সামনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর মাধ্যমে ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূগর্ভস্থ পরমাণু কেন্দ্র সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত করা হয়েছে এমনই দাবি করে রবিবার গভীর রাতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ একাধিক পোস্ট করেন তিনি। তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে ঘিরে উঠেছে প্রবল সন্দেহ ও সমালোচনার ঝড়। অনেক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দাবি পুরোপুরি ভিত্তিহীন এবং তথ্যপ্রমাণহীন। উপগ্রহ চিত্রে হামলার কোনও চিহ্ন মেলেনি, এমনকি তেজষ্ক্রিয়তারও কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ইরানের সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে কার্যত কোনও পারমাণবিক বিকিরণের উপস্থিতি ধরা পড়েনি বলেও জানিয়েছে একাধিক অ-মার্কিন পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, যদি এত বড় ধ্বংসযজ্ঞ হয়ে থাকে, তবে সেটির প্রতিফলন উপগ্রহ চিত্রে স্পষ্টভাবে ধরা পড়ার কথা। কিন্তু একাধিক হাই রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে তারা জানায়, ভূগর্ভস্থ পরমাণু কেন্দ্রগুলির স্ট্রাকচারে কোনও ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ দেখা যাচ্ছে না। এই দাবি যদি ভুয়ো হয়, তাহলে এটি ট্রাম্পের একটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল হিসেবেই দেখছেন অনেক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক।
অন্যদিকে, ট্রাম্প তাঁর দাবিতে অনড়। তিনি বলেন, “এই হামলা ছিল নির্ভুল এবং সুনির্দিষ্ট সামরিক অভিযান। ইরানের পরমাণু কর্মসূচির মূলোচ্ছেদ হয়ে গেছে। এখন বিশ্ব অনেক বেশি নিরাপদ।” ট্রাম্প আরও দাবি করেন, উপগ্রহ চিত্রেই নাকি তার প্রমাণ রয়েছে, যদিও তিনি নিজে কোনও নির্দিষ্ট ছবি প্রকাশ করেননি। মার্কিন প্রশাসন এখনও পর্যন্ত ট্রাম্পের এই দাবির বিষয়ে কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া জানায়নি। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রাম্পের মন্তব্য বর্তমান প্রশাসনের মন্তব্যকে প্রতিফলিত করে না।
