ওঙ্কার ডেস্ক : ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগের মধ্যে শনিবার ভোরে ফের গাজায় হামলা চালাল ইজরায়েল। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বোমা হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে হামাস শান্তির জন্য প্রস্তুত বলে ঘোষণা করার পরও এই হামলা চালান হয়। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্টের শান্তি প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে পরিকল্পনা মাফিক সংঘর্ষ শেষ করার লক্ষ্যে জিম্মিদের মুক্তি এবং অন্যান্য কিছু শর্ত মেনে নেয় হামাস।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় ইজরায়েলি গুলিবর্ষণে ৭ জন নিহত হয়েছে। চিকিৎসা কর্মী এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাজা শহরের একটি বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণের ফলে চারজন নিহত হয়েছে এবং দক্ষিণের খান ইউনিসে আরও দুজন নিহত হয়েছে।
শনিবার ভোরে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, “হামাসের প্রতিক্রিয়ার পর ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ের ‘তাৎক্ষণিক বাস্তবায়ন’ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।” এর কিছুক্ষণ পরেই, ইজরায়েলি মিডিয়া জানায়, দেশের রাজনৈতিক মহল গাজায় আক্রমণাত্মক তৎপরতা কমাতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে। যদিও ইজরায়েলি সামরিক বাহিনীর প্রধান এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ের বাস্তবায়নের জন্য সেনাবাহিনীকে প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন, তবে গাজায় সামরিক তৎপরতা হ্রাস করা হবে কিনা তা উল্লেখ করেননি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট রবিবার পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে জানিয়েছিলেন, এই পরিকল্পনা মেনে না নিলে গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে। এদিকে, ট্রাম্পের শান্তি প্রক্রিয়ার ২০-দফা পরিকল্পনায় সম্মতি দিয়েছে গাজা নিয়ন্ত্রণকারী প্যালেস্টাইনি দল হামাস। শুক্রবার একটি বিবৃতি দিয়ে তারা জানিয়েছে, “গাজ়া স্ট্রিপে আমাদের লোকজনের উপর অত্যাচার, আগ্রাসন থামাতে বৃহত্তর স্বার্থে হামাস নেতৃত্ব ট্রাম্পের পরিকল্পনা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন এবং তার ভিত্তিতে এই বিবৃতি জারি করা হচ্ছে। গাজ়ায় যুদ্ধ থামাতে মুসলিম এবং আরব দেশগুলির প্রচেষ্টা, ট্রাম্পের প্রচেষ্টার প্রশংসা করছে হামাস। ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুযায়ী হামাস বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার প্রস্তাবে রাজি। এর জন্য কিছু শর্ত প্রয়োগ করা অবশ্যম্ভাবী। এই প্রেক্ষিতে হামাস সমঝোতার শর্তাবলি এবং গোটা প্রক্রিয়া নিয়ে বিশদে কথা বলতে আলোচনার টেবিলে যেতে চায়। প্যালেস্টাইনি কোনও গোষ্ঠীর হাতে গাজ়ার প্রশাসনিক দায়িত্ব তুলে দিতে চায় হামাস।’’
ট্রাম্প নিজেকে গাজায় শান্তি অর্জনে সক্ষম একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে দাবি করেছেন। দু’ বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক পদক্ষেপ করেছেন। যেখানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং মার্কিন মিত্র ইজরায়েলকে বিশ্ব মঞ্চে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন করে তুলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “হামাস দেখিয়েছে যে তারা ‘স্থায়ী শান্তির জন্য প্রস্তুত’। এবার তিনি নেতানিয়াহুর সরকারের উপর দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন,
“ইজরায়েলকে অবিলম্বে গাজায় বোমা হামলা বন্ধ করতে হবে, যাতে আমরা জিম্মিদের নিরাপদে এবং দ্রুত বের করে আনতে পারি !” তিনি আরও লিখেছেন, “আমরা ইতিমধ্যেই বিস্তারিত আলোচনায় আছি যা সমাধান করা হবে। এটি শুধু গাজা সম্পর্কে নয়, এটি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘকাল ধরে আকাঙ্ক্ষিত শান্তি সম্পর্কে।”
নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, “ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইজরায়েল নির্ধারিত নীতিমালা অনুসারে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কাজ চালিয়ে যাবে।” ইজরায়েলের সর্বশেষ ঘোষণার আগে, গাজায় হামাসের হাতে আটকে থাকা ব্যক্তিদের পরিবার নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল “সকল জিম্মিকে ফিরিয়ে আনার জন্য অবিলম্বে আলোচনার নির্দেশ দিতে।”
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে গাজায় ৬৬,০০০ এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই সাধারণ নাগরিক। এই লাগাতার আক্রমণে গাজার কিছু অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। কিছু অংশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। ছিটমহল জুড়ে পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ।
